written by | October 11, 2021

মাশরুম ব্যবসা

কিভাবে মাশরুম চাষের ব্যাবসা শুরু করা যায়?

মাস্রুম অত্যন্ত উপাদেয় একটি উপকরন যা দিয়ে অসংখ্য ধরনের পদ রান্না করা যায়। সেই কারনে মাশরুম বর্তমানে বিভিন্ন রেস্টুরান্টে ব্যাবহ্রিত হয়। তা ছাড়াও এই উপকরণটি অনেক মানুষ তাদের ঘরের প্রতিদিনের রান্নাতেও ব্যাবহার করে থাকেন। কারন যারা সাধারনত নিরামিষ খাবার খেতে পছন্দ করেন, তাদের জন্য মাস্রুম অনেক সস্বাদু খাবার আস্বাদন করার সুযোগ করে দেয়। সেই কারনে প্রচুর মানুষ বর্তমানে প্রতিদিন মাশরুম ক্রয় করছেন এবং তা ব্যাবহার করছেন। তাই মাশরুমের ব্যাবসা বর্তমানের তরুন উদ্যোক্তাদের জন্য অত্যন্ত সহজ এবং গুরুত্বপূর্ণ একটি সুজগের স্রিশ্তি করেছেন। তাই আপনিও চাইলেই নিজের চেষ্টায় শুরু করতে পারেন মাশরুম উৎপাদনের ব্যাবসা।

মাশরুম উৎপাদন করার প্রক্রিয়া মতেই জটিল নয়। তবে এই প্রক্রিয়া নির্ভুল ভাবে সম্পন্ন করা খুবই জরুরি। আর আপনি যদি তা না করতে পারেন, তবে আপনার উৎপাদন করা মাশরুম ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে এবং তা আপনার ক্রেতাদের উপর বিশেষ প্রভাব ফেলে। তাই আপনার জেনে নেওয়া দরকার যে এই ব্যাবসা শুরু করতে গেলে আপনার প্রাথমিকভাবে কি সামগ্রি সংগ্রহ করা দরকার। তা ছাড়াও আমাদের জানতে হবে যে এই ব্যাবসা শুরু করার সময় অন্যান কি কি বিষয় আমাদের স্মরনে রাখতে হবে। তাই আর সময় নষ্ট না করে আসুন আমরা জেনে নিই মাশরুমের ব্যাবসা সম্পর্কিত এই সমস্ত তথ্য।

মাশরুম উৎপাদনের ব্যাবসার জন্য প্রয়োজনীয় প্রাথমিক উপকরনসমূহ

মাশরুমের ব্যাবসা শুরু করতে গেলে বেশ কিছু অতি সাধারণ সামগ্রি প্রয়োজন যা আপনারা খুব সহজেই সংগ্রহ করতে পারবেন। আর এই সমস্ত সামগ্রী সংগ্রহ করতে পারলে খুব সহজেই অত্যন্ত উচ্চ মানের মাশরুম খুব সহজে উৎপাদন করতে পারবে। তাই এই ব্যাবসা শুরু করার আগে কি কি উপকরণ আমাদের সংগ্রহ করতে হবে তা যদি আমরা জেনে নিই, তবে আমাদের ব্যাবসার পরিকল্পনা প্রনয়নে সুবিধা হবে।

১)কাঠের পাত্র-

মাশরুমের চাষ সম্পূর্ন ভাবে করা হয় কাথের পাত্রের ভিতর। তবে এই কাজ করার জন্য মাশরুম চাষের পদ্ধতি সম্পর্কে বিস্তারিত জ্ঞান এবং প্রচুর দক্ষতা প্রয়োজন। তাই আপনার দক্ষতা, এবং কতটা মাশরুম একবারে আপনি উৎপাদন করতে ইচ্ছুক, তার ভিত্তিতে আপনাকে প্রয়োজনীয় সংখ্যার কাঠের পাত্র কিনতে হবে।

২)খড়-

মাশরুম চাশ কিন্তু অন্যান ফসলের মত মাটিতে উৎপাদন করা হয় না। করা হয় খড়ের মধ্যে। কাঠের পাত্রে খড় রেখে তার মধ্যে প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়াকরন করলেই খুব সহজেই মাশরুম চাশ করা সম্ভব। তাই এই ব্যাবসা শুরু করার আগে আপনাকে দেখে নিতে হবে যে আপনি নিয়মিতভাবে খড়ের জগান দিতে পারবেন কিনা।

৩)খড় কাটার জন্য ধারালো কোন উপকরণ-

খড় যখন আপনার কাছে প্রাথমিকভাবে এসে পউছবে তখন তা আকারে তাদের সুবিধামত করা থাকবে যারা খড় আপনাকে বিক্রয় করেছে। তবে সেই খড় ব্যাবহার করে মাশরুম উৎপাদন শুরু করতে গেলে আপনাকে আগে সেই খরকে নির্দিস্ট আকারে কেতে নিতে হবে যাতে সেই খড়কে আপনি কাঠের পাত্রে সঠিকভাবে রাখতে পারেন এবং সেখানে মাশরুম উৎপাদন করতে পারেন। আর সেই জন্য আপনার কাছে প্রয়োজনীয় কোন ধারালো সামগ্রী থাকা প্রয়োজন যা দিয়ে আপনি এই কাজ করতে পারেন।

৪)প্লাস্টিক শিট-

মাশরুমের ব্যাবসায় কিছু কিছু ক্ষেত্রে সামান্য রোদের প্রয়োজন হয় ঠিকই তবে তা সাধারনত সরাসরি প্রয়োগ করা হয়না। তবে তা ছাড়া অধিকাংশ ক্ষেত্রেই মাশরুম উৎপাদন করা হয় রোদের সংস্পর্ষ যাতে না পায় সেই ভাবে। আর এই কাজ করার জন্য যথেষ্ট প্লাস্টিক শিতের প্রয়োজন যাতে রোদকে মাশরুমের সংস্পর্ষে আসা থেকে আটকানো যেতে পারে।

মাশরুম উৎপাদনের ব্যাবসার সুবিধা

মাশরুমের ব্যাবসা অত্যন্ত আধুনিক প্রকৃতির একটি ব্যাবসা। তাই এই ব্যাবসা শুরু করলে কিছু এমন সুবিধা দেখা দেবে যা আজকের পরিস্থিতিতে আমাদের অনেক্রকম্ভাবে সাহায্য করবে। তাই এই ব্যাবসা শুরু করা যেতে পারে, তবে আমরা এমন অনেক সুবিধা পাব যা আমরা কোন প্রথাগত ব্যাবসায় পাব না। তাই আসুন আমরা জেনে নিই এই সুবিধাগুলি সম্পর্কে।

১)উর্বর মৃত্তিকার প্রয়োজনহীনতা-

আমরা আগেই আপনাদের জানিয়েছি যে মাশরুম চাষ হয় খড়ের উপর। তাই মাশরুম উৎপাদন করার জন্য কোনরকমই মাটির প্রয়োজন হয়না। তাই আপনি যদি ভেবে থাকেন আপনি উর্বর মৃত্তিকার সন্ধান না করতে পারলে এই ব্যাবসা শুরু করতে পারবেন না, তবে আপনি সম্পূর্ণ ভুল ভাবছেন।

২)সূর্যালোকের অপ্রয়োজনীয়তা-

মাশরুম উৎপাদন করতে সূর্যালোকের কোনরকম সাহায্য প্রয়োজন হয় না। এই চাশ করার মুল একটি শর্তই হল অন্ধকার। কারন বেসিক্ষন সূর্যালোকের সংস্পর্শে এলে মাশরুম ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে যায়।

৩)উচ্চ ফলনশীলতা-  

আমরা আগেই জানিয়েছি যে মাশরুম উৎপাদন করার জন্য বেশ কিছু নির্দিস্ট পদক্ষেপকে অনুসরণ করতে হয়, এবং তা না করলে মাশরুম ক্ষতিগ্রস্থ হয়। তবে আপনি যদি এই পদক্ষেগুলি অনুসরনে কোন ভুল না করেন, তবে আপনি খুব উচ্চ ফলন্সীল মাশরুম খুব সহজেই উৎপাদন করতে পারবেন।

মাশরুম উৎপাদনের ব্যাবসার অসুবিধা

মাশরুম উৎপাদন ব্যাবসা আধুনিক হওয়ায় যেমন একাধিক আধুনিক সুবিধা পাওয়া যায়, তেমনই সম্মুখীন হতে হয় এমন কিছু সমসসার যা নতুন ব্যাবসা সংক্রান্ত হওার কারনে এখন সমাধান করার কোন উপায় আবিস্কার করা যায়নি। তাই আপনি যদি এই ব্যাবসা শুরু করার জন্য পরিকল্পনা শুরু করে থাকেন, তবে আপনাকে এই অসুবিধাগুলির কোথাও জেনে রাখতে হবে।

১)মাকড়সা ও অন্যান্ন কীটের উপদ্রব-

মাশরুমের উৎপাদন করতে গেলে যে প্রধান একটি সমস্যার সম্মুখীন হতে হয় তা হল মাকড়শা। এক বিশেষ ধরনের মাকড়শা এই মাশরুমের উৎপাদনের সময় সেই পাত্রগুলির দিকে আকৃষ্ট হয় যেখানে মাশরুম উৎপাদনের প্রক্রিয়া চলছে। এ ছাড়াও আরও অন্যান অনেক পোকামাকড়ও এসে পৌছায় মাশরুমের উৎপাদনক্ষেত্রে। আর এই সমস্ত কীটের উপদ্রব থেকে আপনার মাশরুমকে আপনি রক্ষা করতে না পারেন তবে আপনার মাশরুম স্বাস্থের পক্ষে ক্ষতিকর প্রমানিত হতে পারে। এবং তা হলে আপনার উৎপাদিত মাশরুম বিক্রয়ের অযোগ্য বলে ঘোষিত হবে।

২)সংরক্ষনের ব্যাবস্থা-

আমরা আগেই জানিয়েছি যে সরাসরি সূর্যালোকে মাশরুম ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তাই মাশরুম উৎপাদিত হওার পর আমরা যদি তাকে সঠিকভাবে অন্ধকারে সংরক্ষন করার ব্যাবস্থা না করি তবে আমাদের এই উৎপাদন করা কখনই লাভজনক হবে না। কারন উৎপাদিত মাশরুমের একটা বিশাল অংশ সূর্যালোকের সংস্পর্শে নষ্ট হয়ে যাবে।

৩)সঠিক তাপমাত্রা-

মাশরুম উৎপাদনের আরও একটি মূল সমস্যা হল তাপমাত্রা। যে স্থানে মাশরুম উৎপাদন করা হচ্ছে সেই স্থানের তাপমাত্রা যদি গড় ২৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের আশেপাশে না হয়, তবে আপনার উৎপাদিত মাশরুম খুব সহজেই নষ্ট হয়ে যাবে। তাই আপনাকে আগে থেকে এমন ব্যাবস্থা করে রাখতে হবে যাতে উৎপাদনকক্ষের তাপমাত্রা যাতে ২৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের কাছাকাছি রাখা যায়।

এতক্ষন আমরা মাশরুম উৎপাদনের ব্যাবসা সম্পর্কে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য নিয়ে আলছনা করলাম। এই তথ্যগুলি তাদের জন্য খুবই প্রয়োজনীয় যারা ভাবছেন যে নিজেদের প্রচেষ্টায় মাশরুম উৎপাদনের ব্যাবসা গড়ে তুলবেন। আর আপনি যদি তাদেরই একজন হয়ে থাকেন, তবে আপনার জন্য এই কাজ আরও সহজ হয়ে যাবে কারন আপনি এই প্রবন্ধের মারফৎ এমন অনেক তথ্য জেনেছেন যা অন্যান্ন মাশরুম উৎপাদন ব্যাবসার উদ্যোক্তারা জানেন না। তাই এই তথ্যগুলিকে ভাল করে জানার চেষ্টা করুন এবং যথাসম্ভব স্মরনে রাখার চেষ্টা করুন। তারপর যখন নিজের ব্যাবসার জন্য আপনি পরিকল্পনা প্রনয়নে উদ্যত হবে, তখন এই তথ্যগুলিকে বিশ্লেশন করে একটি মজবুত পরিকল্পনা গড়ে তুলুন। তারপর আপনাকে শুধু সেই পরিকল্পনাকে অনুসরণ করতে হবে। তাহলেই আপনি এই ব্যাবসায় খুবই সুজে উন্নতি লাভ করতে পারবেন।

Related Posts

None

হোয়াটসঅ্যাপ বিপণন


None

জিএসটি এফেক্ট কিরণ স্টোর


None

হাসান নিচ্ সাধারণ দোকানে জন্য কোড


None

মুদি দোকান


None

কিরানার দোকান


None

ফল এবং সবজি দোকান


None

বেকারি ব্যবসা


None

হস্তশিল্প ব্যবসা


None

অটোমোবাইল আনুষাঙ্গিক