written by | October 11, 2021

বিজ্ঞাপন সংস্থা ব্যবসায়িক পরিকল্পনা

কিভাবে বিজ্ঞাপন সংস্থা এজেন্সির ব্যবসা শুরু করা যায়?

এখনকার বিপণনময় বিশ্বে ব্যবসার সম্ভাব্য গ্রাহকদের আকৃষ্ট করার জন্য সৃজনশীল এবং কার্যকর বিজ্ঞাপনের খুবই প্রয়োজন। বিজ্ঞাপন সংস্থাগুলি এই ধরনের প্রচারগুলি তৈরি করতে এবং পরিকল্পনা করতে সহায়তা করে। আপনি যদি বিজ্ঞাপন সংস্থা বা এই ধরণের কোন সংস্থায় কাজ করে থাকেন এবং নিজেকে পরবর্তী ধাপে এগিয়ে নিয়ে নিজের বিজ্ঞাপন সংস্থা এজেন্সি খুলতে চান তাহলে হয়ত অনেক বিষয়েই আপনার ধারণা থাকবে।

যদিও  বিজ্ঞাপন সংস্থা এজেন্সির ব্যবসায় প্রতিযোগিতা অনেক তবুও সঠিক ভাবে শুরু করতে পারলে অনেকটাই লাভ করা সম্ভব।

আমরা জানি, নিজস্ব ব্যবসা শুরু করা অনেকটা সময়সাপেক্ষ এবং কষ্টকর ব্যাপার। অনেক ক্ষেত্রে শুরু কোন জায়গার থেকে হবে সেটা বোঝাও দুষ্কর হয়ে যায়।

তবে নিম্নলিখিত কয়েকটি ধাপের মাধ্যমে আপনি বিজ্ঞাপন সংস্থা এজেন্সির ব্যবসা শুরু করতে পারবেন এবং সাফল্যও আনতে সক্ষম হবেন।

প্রথম ধাপঃব্যবসার পরিকল্পনা

একটি সফল ব্যবসার জন্য সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ দিক হল একটি স্পষ্ট পরিকল্পনা থাকা। ব্যবসা কে বড় করে তোলার পিছনে এবং ব্যবসার ক্ষেত্রে অজানা অনেক কিছুকে জানার জন্য একটি নির্দিষ্ট পরিকল্পনার ভূমিকা অনস্বীকার্য। পরিকল্পনার সময় নিম্নলিখিত কয়েকটি জিনিস খেয়াল রাখতে হবেঃ

  • ব্যবসা শুরুর  ক্ষেত্রে ব্যয়গুলি কি কি?
  • আপনি কোন গ্রাহকদের লক্ষ্য করছেন?
  • আপনার পারিশ্রমিক কত ধার্য  করবেন?
  • আপনি আপনার ব্যবসায়ের নাম কি রাখবেন?

ব্যবসা শুরুর  ক্ষেত্রে ব্যয়গুলি কি কিঃ

যেহেতু বিজ্ঞাপন সংস্থাগুলি পণ্য না পরিষেবা সরবরাহ করে,তাই এজেন্সি শুরু করার জন্য ব্যয় খুব কম হয়। সাধারনত, 

  •  গ্রাহকদের সাথে দেখা করার জন্য একটি অফিসের প্রয়োজন
  •  কাজ করার জন্য কম্পিউটার
  •  একটি ইন্টারনেট সংযোগ
  •  বিজ্ঞাপন মুদ্রণের জন্য একটি প্রিন্টার থাকা উচিত
  • এজেন্সিগুলির একটি ওয়েবসাইটও প্রয়োজন 

যদিও উপরোক্ত খরচগুলোও কম করার বিভিন্ন উপায় আছে। যাদের বাজেট অনেকটাই কম তারা নিম্নলিখিত উপায়গুলো দেখতে পারেনঃ

  • প্রয়োজনীয়তার ভিত্তিতে একটি অফিস ভাড়া করুন
  • সেইসব কফি শপগুলিতে কাজ করুন যেখানে বিনামূল্যে ওয়াই-ফাই সরবরাহ করে থাকে
  • ব্যক্তিগত কম্পিউটার ব্যবহার করুন
  • স্থানীয় মুদ্রণের দোকান থেকে মুদ্রণ করুন

আপনি কোন গ্রাহকদের লক্ষ্য করছেন?

বিজ্ঞাপন সংস্থার গ্রাহকরা বেশিরভাগ সময় অন্যান্য ব্যবসা, কর্পোরেশন বা অলাভজনক সংস্থা হয়। কোনও নির্দিষ্ট এজেন্সির আদর্শ গ্রাহক এমন একজন হবে যা কোনও সংস্থার বিপণন ক্ষেত্রের মধ্যে থাকবে এবং তার থেকে কাজ আসতেই থাকবে, এই জাতীয় গ্রাহকরা এজেন্সির সাথে রিটেনার হওয়ার কথা ভেবে থাকে। (রিটেনার হল এমন একটি ব্যবস্থা যেখানে কোনও গ্রাহক প্রতি সপ্তাহে বা মাসে কোনও সংস্থাকে পর্যাপ্ত পরিমাণ অর্থ প্রদান করে এবং বিনিময়ে এজেন্সিটি গ্রাহকের কাজ করার জন্য নির্দিষ্ট সময় আলাদা করে রাখে)

কোনও বিজ্ঞাপন সংস্থা কীভাবে অর্থ উপার্জন করতে পারে?

একটি বিজ্ঞাপন সংস্থা গ্রাহকদের জন্য  বিজ্ঞাপন প্রচার তৈরি এবং পরিকল্পনার মাধ্যমে অর্থোপার্জন করে। বেশিরভাগ পরিস্থিতিতে, কোনও সংস্থা নিজেদের লাভ রেখেই সম্ভাব্য গ্রাহককে তাদের কাজের জন্য কত খরচ হতে পারে তা জানায়। যদি গ্রাহকের তা যুক্তিসঙ্গত মনে হয় তখন এজেন্সিটি তাদের জন্য প্রচার করতে চুক্তিবদ্ধ হয়।

আপনি কত পারিশ্রমিক  ধার্য  করতে পারেন?

বিজ্ঞাপন সংস্থাগুলি সাধারণত প্রতি ঘন্টা পিছু বা কমিশন হিসেবে পারিশ্রমিক ধার্য করেন। টু হ্যাটস কনসাল্টিং অ্যান্ড ওয়েব ডিজাইন সার্ভিসেসের মতে, প্রতি ঘণ্টায় ফি সাধারণত (যে কজন ব্যক্তি কাজ করবে তাদের বার্ষিক আয়কে ১৫০০ (একটি সাধারণ ব্যক্তি এক বছরে কাজ করতে পারে যে কয়েক ঘন্টা)  দিয়ে ভাগ করে গণনা করা হয় । কমিশন সাধারণত সমস্ত মিডিয়া এবং অন্য সকল খরচের ১৫ শতাংশ হয়।

একটি বিজ্ঞাপন সংস্থা কত লাভ করতে পারে?

উপরে উল্লিখিত হিসাবে, বিজ্ঞাপন সংস্থাগুলি বার্ষিক কয়েক কোটি উপার্জন করতে পারেন তবে বেশিরভাগের বার্ষিক আয় অনেক কম থাকে। অনেক সংস্থাগুলি তাদের কাজের ক্ষেত্র এবং স্বাতন্ত্র্যের উপর নির্ভর করে বার্ষিক দশক বা কয়েকশো হাজার উপার্জন করতে পারেন। যদিও বার্ষিক আয় লক্ষ লক্ষ অর্জন করার কোথাও শোনা যায় ।

আপনি কীভাবে আপনার ব্যবসায়কে আরও লাভজনক করতে পারেন?

একটি বিজ্ঞাপন সংস্থা সাধারণত বিপণনের পাশাপাশি পরিষেবাগুলি সরবরাহ করে  লাভ বাড়িয়ে তুলতে পারে। উদাহরণস্বরূপ, কোনও সংস্থা গ্রাহকের প্রয়োজন অনুসারে তাদের জনসংযোগ বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ক্ষেত্রে পরামর্শ পরিষেবা প্রদান করতে পারে।

আপনি আপনার ব্যবসায়ের নাম কি রাখবেন?

সঠিক নাম নির্বাচন করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আপনার যদি ইতিমধ্যে কোনও নাম ঠিক করা না থাকে তবে কীভাবে কোনও ব্যবসার নামকরণ করা যেতে পারে সেই ব্যাপারে কয়েকটি অনুচ্ছেদ পড়তে পারেন।

তারপরে, ব্যবসার নাম আইনিকরন করার সময় ট্রেডমার্ক এবং ওয়েব অনুসন্ধান করে নিন। এবং আপনার পছন্দ করা নামটি তাড়াতাড়ি সুরক্ষিত করার জন্য যে কোনও ওয়েব ডোমেনের মাধ্যমে নিজের ওয়েবসাইট খুলুন।  

দ্বিতীয় ধাপঃআইনি স্বত্তা গঠন করা

আইনি স্বত্তা গঠন করার মাধ্যমে আপনি আপনার ব্যবসাকে আর এক ধাপ এগিয়ে নিয়ে যেতে পারেন। কেউ যদি আপনার ব্যবসার বিরুদ্ধে কোন মামলা করে আইনি স্বত্তা গঠন করা থাকলে আপনি ব্যক্তিগতভাবে দায়বদ্ধ থাকবেন না।

তৃতীয় ধাপঃকরের নথিভুক্তকরন

পরবর্তী ধাপ হল আপনার ব্যবসাকে করের জন্য নথিভুক্তকরন করা।

চতুর্থ ধাপঃব্যাংক এ কারেন্ট অ্যাকাউন্ট  খোলা এবং ক্রেডিট কার্ড এর জন্য আবেদন করা

ব্যবসার সমস্ত লেনদেন করার জন্য কারেন্ট অ্যাকাউন্ট  থাকা খুবই প্রয়োজনীয়। এর ফলে আপনার ব্যাক্তিগত টাকা এবং সম্পত্তি সুরক্ষিত থাকবে। এবং কারেন্ট অ্যাকাউন্ট  থাকলে ব্যবসার হিসেবনিকেশ করতে আর খাজনা দিতে অনেক সুবিধা হবে।

ব্যবসার জন্য একটা আলাদা ক্রেডিট কার্ড থাকলে সমস্ত খরচ এক জায়গায় থাকে যার ফলে পরবর্তী তে ব্যবসার জন্য টাকা বিনিয়োগের প্রয়োজন হলে সুবিধা হয়।এবং ব্যবসার জন্য ক্রেডিট কার্ড থাকলে আপনার ব্যাক্তিগত খরচও আলাদা করা সম্ভব হয়।

পঞ্চম ধাপঃব্যবসার হিসেবরক্ষণ

ব্যবসার সব খরচ এবং আয়ের উৎস সঠিকভাবে লিখে রাখলে তা ব্যবসাকে বুঝতে অনেক সাহায্য করে।এবং পরবর্তীতে তা করের হিসেব করতেও অনেক সুবিধা করে।

ষষ্ঠ ধাপঃপ্রয়োজনীয় অনুমতি এবং লাইসেন্স প্রাপ্ত করা

আপনার ব্যবসায় যাতে কোন অসুবিধার সৃষ্টি না হয় বা আপনার ব্যবসা যাতে অবৈধ হিসেবে বিচার্য না হয় সেই কারণে প্রয়োজনীয় সকল অনুমতি এবং লাইসেন্স প্রাপ্ত করুন।

সপ্তম ধাপঃব্যবসার  বীমাকরন 

আপনার ব্যবসাকে সঠিক ভাবে চালু রাখার জন্য যেভাবে অনুমতি এবং লাইসেন্স দরকার সেইভাবেই বীমার ও প্রয়োজন। ব্যবসার বীমা থাকলে অনেক ক্ষতির থেকে ব্যবসাকে রক্ষা করা সম্ভব হয়। 

অষ্টম ধাপঃ নিজের ব্র্যান্ডকে সঠিকভাবে বর্ণনা করা

আপনার এজেন্সি কেমন এবং আপনার ব্যবসাকে সবাই কীভাবে গ্রহন করছে তাই আপনার ব্র্যান্ডকে নির্ধারণ করবে এবং প্রতিযোগীদের থেকে আপনাকে এগিয়ে রাখবে।

নবম ধাপঃওয়েবে উপস্থিতি স্থাপন করা

ব্যবসার প্রচারের জন্য সবথেকে ভালো উপায় হল কোম্পানির নিজস্ব ওয়েবসাইট থাকা। এমন অনেক সাইট আছে যেখান থেকে আপনি খুব সহজে নিজের ব্যবসার ওয়েবসাইট খুলতে পারবেন। এছাড়া সামাজিক মাধ্যমও প্রচারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটা অংশ। আপনি আপনার ব্যবসার একটা ফেসবুক পেজ খুলে  সন্তুষ্ট ক্রেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতে পারবেন। সেই পেজ-এ তাদের আপনার এজেন্সি সম্পর্কে ইতিবাচক পর্যালোচনা করতে বলুন যার মাধ্যমে আপনি নতুন গ্রাহকদের আকৃষ্ট করতে পারবেন। অবশ্যই খেয়াল রাখবেন যখন কেউ আপনার ব্যবসার নাম দিয়ে বা “বিজ্ঞাপন সংস্থা এজেন্সি + আপনার এলাকার নাম” দিয়ে গুগল করছে তখন আপনার এজেন্সির  নাম সার্চ ইঞ্জিন-এ দেখাচ্ছে কিনা।

বিজ্ঞাপন সংস্থা এজেন্সির ব্যবসা খোলার জন্য সৃজনশীলতা এবং ব্যবসায়িক মনভাবের মেলবন্ধন থাকা খুবই প্রয়োজন। কারণ গ্রাহকদের আকৃষ্ট করার প্রধান আকর্ষণ হবে একটি অনন্য এবং সৃজনশীল বিজ্ঞাপন। তাই আপনি যদি সৃজনশীলতায় বেশী আগ্রহী হন সেই ক্ষেত্রে লেনদেন সম্পর্কিত দিকের জন্য উপযুক্ত কোন ব্যক্তির সাথে অংশীদারিত্ব আপনার ব্যবসার জন্য খুবই ভালো পদক্ষেপ হবে।

এইগুলিই হল আপনার বিজ্ঞাপন সংস্থা এজেন্সি শুরু করার কয়েকটি প্রধান ধাপ। এইভাবেই পথ চলা শুরু করে আপনি একদিন বিজ্ঞপন সংস্থা এজেন্সির একজন নামকরা ব্যক্তি হয়ে উঠতে পারেন। 

Related Posts

None

হোয়াটসঅ্যাপ বিপণন


None

জিএসটি এফেক্ট কিরণ স্টোর


None

হাসান নিচ্ সাধারণ দোকানে জন্য কোড


None

মুদি দোকান


None

কিরানার দোকান


None

ফল এবং সবজি দোকান


None

বেকারি ব্যবসা


None

হস্তশিল্প ব্যবসা


None

অটোমোবাইল আনুষাঙ্গিক