written by | October 11, 2021

ফার্ম বনাম সংস্থা বনাম অংশীদারিত্ব বনাম এলএলপি

ফার্ম এবং কোম্পানি, অংশীদারি এবং কোম্পানি আর অংশীদারি এবং সীমিত দায়ের অংশীদারির মধ্যে পার্থক্য কি কি?

বর্তমানে অনেক তরুন যুবক নিজস্ব উদ্যমে তাদের নিজস্ব ব্যাবসা সুরু করার প্রচেষ্টা করছে। তাই ব্যাবসার সংখ্যা ও বেড়েছে প্রচুর পরিমানে। আর এইভাবে সময়ের সাথে সাথে ব্যাবসা একটি ভরসাযোগ্য উপার্জনের ক্ষেত্র হয়ে উঠছে। তবে এই ক্ষেত্রটি ভরসাযোগ্য যেমন, তেমনই এখানে প্রতিযোগিতাও খুব বেশি। তাই বর্তমানে জেকন ধরনের ব্যাবসায় সাফল্য লাভ করতে গেলে আমাদের আগে সেই সকল ব্যাবসা সম্পর্কে জানতে হবে। তারপর সেই জানা তথ্যের ভিত্তিতে ব্যাবসায়িক কাজকর্ম সম্পন্ন করতে পারলে তবেই আপনি ব্যাবসায় উন্নতি সাধন করতে পারবেন। 

আমরা এই প্রবন্ধে যে সমস্ত ধরনের ব্যাবসা নিয়ে কথা বলব তা হল ফার্ম, কোম্পানি, অংশীদারি এবং সীমিত দায়ের অংশীদারি। এই ছার ধরনের ব্যাবসাকে অনেকেই এক ভেবে ভুল করে। আর সেইভুল ভেঙ্গে দেওয়া খুবই প্রয়োজনীয়। কারন এইরকম ভুল ধারনা নিয়ে ব্যাবসায় অগ্রসর হলে ব্যাবসার ব্যার্থ হওয়া খানিকটা বাধ্যতামূলক। তাই আমরা একে একে সবছেয়ে বেসি যে সমস্ত ভুল ধারনাগুলি করা হয়ে থাকে সেইগুলো মেটানোর চেষ্টা করব। আর এই ভুল গুলি মেটানোর জন্য আমরা এই সকল ধরনের ব্যাবসাগুলির পার্থক্যগুলির কথা বলব। আর এই পার্থক্যগুলির কথা জানলেই সেই সমস্ত ভুল ধারনাগুলিও ভেঙ্গে যাবে জাতে মনে হয় এই সকল ধরনের ব্যাবসা আসলে একই।

ফার্ম ও কোম্পানির পার্থক্য

যে সমস্ত ভুল ধারনাগুলির কথা আমরা ইতিমধ্যে আলচনা করলাম, তার মধ্যে অন্যতম একটি ভুল ধারনার শিকার ফার্ম ও কোম্পানি। অনেকেই এই দুতি ব্যাবসায়িক গঠনকে এক বলে মনে করেন। তবে এই দুই ধরনের প্রতিষ্ঠান সম্পুর্ণরুপে আলাদা। তাই আমরা এই দুই ধরনের ব্যাবসায়িক পরিকাথামর কিছু পার্থক্য আলচনা করব।

১) ফার্ম ও কোম্পানির সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপুর্ণ এবং প্রধান পার্থক্য হল এই যে ফার্ম জাতিয় ব্যাবসায় কোন রকম রেজিস্ট্রেশন বাধ্যতা মুলক নয়, তবে কোম্পানির ক্ষেত্রে সরকারি রেজিস্ট্রেশন একদম বাধ্যতামূলক।

২) ফার্মের কোন নিজস্ব স্বত্বা নেই, তাই কোন চুক্তিপত্রের ক্ষেত্রে ফার্ম নিজে একটি পক্ষ হিসেবে যোগদান করতে পারেনা। সেই কাজ করার সময় ফার্মের মালিককে একটি পক্ষ হিসেবে কাজ করতে হয়। তবে কোম্পানির একটি পৃথক স্বত্বা আছে। তাই কোন চুক্তির ক্ষেত্রে কোম্পানি তার মালিক ছারাও আরও একটি পৃথক পক্ষ হিসেবে অংশগ্রহণ করতে পারে।

৩) ফার্মের ক্ষেত্রে এমন কোন নির্দিস্ট সীমা নেই যার চেয়ে কম মূলধন হলে কোন ব্যাবসাকে ফার্ক বলা যাবে না। তবে কোম্পানির ক্ষেত্রে একটি নিয়ম আছে যে অন্ততপক্ষে একটি নির্দিস্ট পরিমান মুল্ধন না থাকলে তাকে কোম্পানি বলা যায়না। এই পরিমান প্রাইভেট লিমিতেদ কোম্পানির জন্য এক লক্ষ টাকা  এবং পাবলিক লিমিতেদ কোম্পানির জন্য পাঁচ লক্ষ টাকা।

৪) একটি ফার্মের অংশীদারের সংখ্যা আইনদ্বারা সীমাদদ্ধ। ফার্মের ব্যাবসার জন্য অন্তত ২ জন অংশিদার থাকা বাধ্যতা মুলক, তবে এই সংখ্যা ২০ অতিক্রম করা চলবে না। তবে একটি কোম্পানির ক্ষেত্রে সদস্য সংখ্যা যত খুসি হতে পারে। তার কোন সীমা আইন দ্বারা ভাগ করা নেই।

অংশীদারি এবং কোম্পানি

বহু মানুষ ফার্ম ও কোম্পানির মতই অংশীদারি এবং কোম্পানিকেও এক ভেবে ভুল করেন। তাই আমরা এই দুই ধরনের ব্যাবসারো পার্থক্যগুলি আপনাদের সামনে তুলে ধরব যাতে আপনাদের বুঝতে অসুবিধা না হয় যে কোম্পানি এবং অংশীদারি কিভাবে আলাদা।

১) অংশীদারি ব্যাবসার ক্ষেত্রে রেজিস্ট্রেসন করানো বাধ্যতামুলক নয়। যদিও এই রেজিস্ট্রেসন করা থাকলে ব্যাবসায়িক কাজে অনেক সুবিধা পাওয়া যায়। তবে এই নিয়ম কোম্পানির ক্ষেত্রে খাতে না। কারন কোন ব্যাবসাকে কোম্পানি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে গেলে তার রেজিস্ট্রেসন একদম বাধ্যতামুলক।

২) কোম্পানির ক্ষেত্রে চিরন্তন অস্থিত্ব দেখা যায়। অর্থাৎ, কোম্পানির মালিকদের মৃত্যু হলেও কোম্পানির অস্থিত্ব বজায় থাকে। তবে অংশীদারির ক্ষেত্রে এই চিরন্তন অস্থিত্বের ধারনা দেখা যায় না। এই ক্ষেত্রে কোন একজন বা একাধিক অংশীদারের মৃত্যুর সাথে সাথে অংশীদারির অবসান হয়।

৩) কিছু বিশেষ ধরনের কোম্পানি রয়েছে যারা বাজারে এক বিসেশ ধরনের কাগজ বিক্রয় করে ঋণ হিসেবে ব্যাবসার জন্য অর্থ সংরহ করে। এই সমস্ত কাগজকে ডিবেঞ্চার বা ঋণপত্র বলে। তবে এই ঋণপত্র ছারার অধিকার কোন অংশীদারির নেই।

৪) একটি কোম্পানির প্রতিস্থাকালে আইনের সাহাজ্য নেওয়া হয়ে থাকে। তাই কোন কোম্পানির অবসান ঘটাতে গেলেও আইনের সাহায্যই আবার নিতে হবে। তবে একটি অংশীদারির সুচনার জন্য সুধুমাত্র একটি সাধারন চুক্তিপত্র প্রয়োজন হয়। তাই এই ধরনের ব্যাবসার অবসানের জন্যও আরও একটি চুক্তিপত্রেরই প্রয়োজন।

অংশীদারি ও সীমিত দায়ের অংশীদারি

এই প্রবন্ধে আমরা শেষ যে দুই ধরনের ব্যাবসার কথা বলব যাদের এক ভেবে অনেকে ভুল করে থাকেন, তা হল অংশীদারি এবং সীমিত দায়ের অংশীদারি। এই দুই ব্যাবসায় মিল আছে বেশ কিছু। তবে তা সত্বেও এই ব্যাবসা দুতিকে কখনই এক বলা যাবে না। তাই আসুন আমরা জেনে নিই কি কারনে এরা এক নয়, এবং এদের মধ্যে মুল পার্থক্য কি কি।

১)সাধারণ অংশীদারি কারবারের ক্ষেত্রে রেজিস্ট্রেসন বাধ্যতামুলক হয়না না। সেই কারনে ইচ্ছে করলেই বিনা কোন রেজিস্ট্রেসনে অংশীদারি কারবার শুরু করা যেতে পারে। তবে এই অংশীদারি যদি সীমিত দায়ের হয়, তখন এই নিয়ম কাজ করে না। কারন ২০০৮ সীমিত দায়ের অংশীদারি আইন অনুযায়ী সীমিত দায়ের অংশীদারি কারবার শুরু করার জন্য নির্দিষ্ট রেজিস্ট্রেসন বাধ্যতামুলক। আর এই রেজিস্ত্রেসন না থাকলে কোন ব্যাবসাকে সীমিত দায়ের অংশীদারি বলা যাবে না।

২)সাধারণ অংশীদারি ব্যাবসা শুরু করার জন্য একমাত্র যা প্রয়োজন তা হল একটি সাধারন অংশীদারি চুক্তি। তবে এই চুক্তি দিয়েসীমিত দায়ের অংশীদারি শুরু করা সম্ভব নয়। কারন তার জন্য প্রয়োজন হয় সীমাবদ্ধ দায় অংশীদারির বিসেশ সম্মতি পত্র। এই সম্মতিপত্র না থাকলে কোন অংসিদারিকে সীমিত দায়ের অংশীদারি বলা যাবে না।

৩)সাধারণ অংশিদারিতে দায়ের কোন সীমা হয় না। ব্যাবসার উপর যত দায় আসে তার সবটাই অংশীদারদের বহন করতে হয়। তবে সীমিত দায়ের অংশীদারিতে এই দায়ভার প্রদত্ত মূলধন দ্বারা সীমাবদ্ধ। মালিকদের দায় এই ব্যাবসায় ততটুকুই জততা মূল্ধন তারা দিএছেন। যদিও এই নিয়ম জোচ্চুরি বা ফ্রড এর ক্ষেত্রে মানা হয়না।

৪)ব্যাবসার পরিমান জতই বাড়ুক না কেন, অংশীদারিতে অডিট করানো বাধ্যতামুলক নয়। তবে সীমাবদ্ধ দায়ের অংশীদারির ক্ষেত্রে মত ব্যাবসার পরিমান ৪০ লাখ আর মুল্ধনের পরিমান ২৫ লাখ অতিক্রমকরে গেলে অডিট করানো বাধ্যতা মুলক।

উপরের প্রবন্ধে আমরা আপনাকে বিভিন্ন ধরনের ব্যাবসা সম্পর্কে বেশ কিছু তথ্য দিলাম। এই তথ্য গুলির সাহায্যে আমরা বেশ কিছু প্রচলিত ভুল ধারনা ভাঙ্গার চেস্তা করলাম। আমরা দেখলাম যে ফার্ম ও কোম্পানির মধ্যে পার্থক্য কি কি। এই পার্থক্যগুলি আমাদের এতা বুঝতে সাহাজ্য করল যে কিভাবে একটি কোম্পানি একটি ফার্মের থেকে আলাদা। একই ভাবে আমরা এও জানলাম যে কোম্পানি ও অংশীদারি, এবং অংশীদারি ও সীমাবদ্ধ দায়ের অংশীদারি কিভাবে আলাদা। আর এই তথ্য গুলোর সাহায্যে আমরা এই সকল ব্যাবসা সম্পর্কে একটা দৃঢ় ধারনা করতে পারলাম। এরপর আমরা এই ধারনার ভিত্তিতে নিজেদের ব্যাবসার কর্মসুচি প্রস্তুত করতে পারি। আর এই কর্মসুচি ভুল বিহিন বানানো যায় তবে সেই শুচিকে অনুসরন করে কোন ব্যাবসা তৈরি হলে তা খুব সহজেই উন্নতি করতে পারবে। তাই আর সময় নষ্ট না করে এই সমস্ত তথ্যগুলি থেকে আপনার প্রয়োজনীয় তথ্য গুলি লিপিবদ্ধ করুন। আর তারপর সেই তহ্য বিশ্লেষণ করে আপনি নিজস্ব ব্যাবসার সুচনা করুন।

Related Posts

None

হোয়াটসঅ্যাপ বিপণন


None

জিএসটি এফেক্ট কিরণ স্টোর


None

হাসান নিচ্ সাধারণ দোকানে জন্য কোড


None

মুদি দোকান


None

কিরানার দোকান


None

ফল এবং সবজি দোকান


None

বেকারি ব্যবসা


None

হস্তশিল্প ব্যবসা


None

অটোমোবাইল আনুষাঙ্গিক