written by | October 11, 2021

তাত্ক্ষণিক খাদ্য ব্যবসা

কীভাবে তাৎক্ষনিক খাদ্য ম্যনুফ্যাকচারিং ব্যবসা শুরু করবে

বর্তমান সময়ে আমাদের ভারতে খাদ্য ম্যানুফ্যাকচারিং ব্যবসা টা অত্যন্ত লাভজনক ব্যবসা হিসেবে পরিগণিত হচ্ছে। অল্প পুঁজি নিয়ে, আল্প লোকবল নিয়ে খুব কম পরিসরেই ব্যবসাটা শুরু করা যায়। ম্যানুফ্যাকচারিং ব্যবসায় তুলনামূলকভাবে লাভ বেশি। কিন্তু, প্রথমে তুমি কি খাদ্য নিয়ে ম্যানুফ্যাকচারিং শুরু করতে চাও সেটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ম্যানুফ্যাকচারিং ব্যবসায় পণ্যের গুণগত মান ঠিক রাখা খুব প্রয়োজনীয়। এছাড়াও তোমার স্থানীয় বাজার ও ভোক্তার চাহিদার দিকে খেয়াল রেখে পণ্য মানুফাকচারিং করলে সব থেকে ভালো ফল পাওয়া যায়। ম্যানুফ্যাকচারিং শুরু করে খুব সহজেই তুমি একজন সফল উদ্যোক্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠা লাভ করতে পারো। 

কিভাবে শুরু করবে? 

তাৎক্ষণিকভাবে অল্প পুজিতে ম্যানুফ্যাকচারিং ব্যবসা শুরু করতে চাইলে তুমি  খাদ্যের মশলা নিয়ে শুরু করতে পারো। এছাড়াও হলুদ গুরো, লাল লঙ্গা গুরো, মাংসের মশলা গুরো, মাছের মশলা গুরো এরকম  বিভিন্ন মশলার ম্যানুফ্যাকচারিং শুরু করতে পারো। এমনিতেই আমাদের ভারতে খাবারে মশলার চাহিদা ব্যাপক। মশলা ছাড়া কোন  খাবার আমরা  কল্পনাই করতে পারি  না।   জন্য বিভিন্ন ধরনের মশলা নিয়ে ম্যানুফ্যাকচারিং ব্যবসা শুরু করাটা হবে সবথেকে বুদ্ধিমানের কাজ।

কোথায় থেকে খাদ্য সংগ্রহ করবে? 

তোমার আশেপাশের স্থানিও বাজার বা পাইকেরী বাজার থেকে ম্যানুফ্যাকচারিং ব্যবসার জন্য মশলা সংগ্রহ করতে পারো। পাইকেরী বাজারে মশলার দাম তুলোনামূলকভাবে কম পরে। তাছাড়া তুমি যদি প্রান্তিক ক্রিষক পর্যায় থেকে মশলা কিনে আনতে পারো তবে সবথেকে ভালো হয়। মশলা কেনার সময় এর গুনগত মানের দিক লক্ষ্য রাখতে হবে। 

ম্যনুফ্যাকচারিং কারখানা কেমন হবে? 

ম্যনুফ্যাকচারিং কারখানা অবশ্যই আলো বাতাস লাগে এমন খোলামেলা জায়গায় হতে হবে।  এছাড়াও মশলা রোদ দেওয়ার জন্য কারখানার সামনে বা ছাদে যথেষ্ঠ জায়গা থাকতে হবে। কারখানা প্রিদিন পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখাটাও অত্যন্ত জরুরী। এছাড়াও কারখানাটি এমন প্রশস্ত হবে যেন সহজেই সেখানে বহু কর্মী এক সাথে কাজ করতে পারে এবং কারখানার মেশিন এবং কাঁচামাল রাখার জন্যেও যথেষ্ঠ জায়গা থাকে। আর তোমার বিনিয়োগ করার মতো পুঁজি বেশী থাকলে সে অনুযায়ী একটা বড় কারখানা গড়ে নিলে। 

ম্যানুফ্যাকচারিং এর জন্য কি প্রয়োজন?

ম্যনুফ্যাকচারিং এর জন্য সর্বপ্রথম যা প্রয়োজন তা হলো মেশিন। এছাড়াও ম্যানুফ্যাকচারিং পেপারও দরকার আছ। তুমি কেমন ওজনের পণ্য বাজারজাত করতে চাও সে অনুযায়ী পেপার বানিয়ে নিতে হবে। সেক্ষেতে ৫০ গ্রাম, ১০০ গ্রাম, ২০০, গ্রাম বা ১ কেজি, ২ কেজি অর্থাৎ প্রত্যেকটা আলাদা পরিমাপের জন্য আলাদা পেপার বানিয়ে নিতে হবে। তবে তুমি ইচ্ছা করলেই সাদা ফ্রেশ পেপারে পণ্য ম্যানুফ্যাকচারিং করে ব্যবসা শুরু করতে পার। 

যদি তুমি মশলা নিয়ে কাজ করতে চাও তবে মশলা গুরো করার মেশিনো দরকার পরবে। তারপরে সেই গুরো মশলা পরিমাপ মতন ম্যনুফ্যাকচারিং মেশিনে দিয়ে ম্যানুফ্যাকচার করলেই হয়ে গেলো। এসকল কাজ সম্পন্ন করার জন্য আলাদা মেশিন পাওয়া যায় আবার অটোমেটিক মেশিনো মাওয়া যায়। অটোমেটিক মেশিন একসাথে সব কাজ সক্রিয়ভাবে করতে পারে বলে এর চাহিদা অনেক বেশী।   

কর্মী দরকার আছে কিনা? 

একটি ভাল মানের ম্যানুফ্যাকচারিং কারখানায় অবশ্যই দক্ষ কর্মীর দরকার আছে। কারখানাটি ছোট হলেও দক্ষ কর্মীর দরকার সেক্ষেত্রে কর্মীর প্রয়োজন খুব কমসংখ্যক হবে। এছাড়াও পণ্য বাজারজাত করতে, পণ্য উৎপাদন করতে কারখানাটি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে, কারখানাটির দেখাশোনা করার জন্য কর্মী নিয়োগের দরকার রয়েছে। তোমার কারখানায় যত বেশি দক্ষ কর্মী হবে ততবেশি গুণগত মানসম্পন্ন পণ্য তুমি ম্যানুফ্যাকচার করে খুব সহজেই ভোক্তার নিকট তোমার ব্র্যান্ড ভ্যালু বাড়াতে পারবে। 

লাইসেন্স এবং রেজিস্ট্রেশন কিভাবে হবে? 

সমস্ত খাদ্য সম্পর্কিত ব্যবসা একটি বেসরকারী লিমিটেড সংস্থা বা এলএলপি হিসাবে সেটআপ করার পরামর্শ দেওয়া হয়ে থাকে, যাতে প্রমোটারদের দায়বদ্ধতা সীমাবদ্ধ থাকে এবং ব্যাঙ্কের অর্থায়নে ব্যবসায় সহজেই প্রতিষ্ঠা করতে পারে। সুতরাং, খাদ্য ম্যনুফ্যাকচারিং ব্যবসা শুরু করার সময়  তোমার কোম্পানির বা কারখানার নিবন্ধন বা এলএলপি নিবন্ধকরণের বিকল্প বেছে নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।

সমস্ত খাদ্য ম্যনুফ্যাকচারিং ব্যবসায় বাধ্যতামূলকভাবে ভারতের ফুড সেফটি অ্যান্ড স্ট্যান্ডার্ড অথরিটি কর্তৃক এফএসএসএআই নিবন্ধন গ্রহণ করা প্রয়োজন। সুতরাং, ছোট খাদ্য প্রস্তুতকারক হিসাবে এফএসএসএআই নিবন্ধন করা সমস্ত মশলা বা মশলার গুঁড়া ম্যনুফ্যাকচারকারকদের জন্য বাধ্যতামূলক। এফএসএসএআই নিবন্ধকরণের পাশাপাশি, খাদ্য প্রস্তুতকারক ট্রেডমার্ক রেজিস্ট্রেশন পেতে পারো যদি পণ্য বিক্রির জন্য ব্যবসায়ের কোন আলাদা ব্র্যান্ডের নাম থাকে। প্রস্তুতকারকের পণ্য রফতানির জন্য পরিকল্পনা করা হলে আমদানি রফতানির কোড বা আইই কোড দরকার হবে।

পণ্য বাজারজাতকরণ কি করে হবে? 

ম্যানুফ্যাকচারিং ব্যবসায় তোমার ম্যানুফ্যাকচার কৃত পণ্য বাজারজাত করা সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। কারন তুমি যে পণ্য বাজারজাত করছো তা কেন বহুজাতিক কোম্পানিগুলো আগেই বাজারজাত করে রেখেছে। তারা বিজ্ঞাপণ প্রচার করে তাদের ব্রান্ড ভ্যালুও তৈরী করে রেখেছে। যার দরুন তাদের পণ্যের বিক্রি তোমার পণ্যের বিক্রি থেকে বেশি হবে এটাই স্বাভাবিক। সেক্ষেত্রে তুমি লোকাল বাজারগুলোকে তোমার পণ্যের বাজার হিসেবে ধরতে পারো। এছাড়াও তুমি যদি একদম সাদা পেপারে তোমার পণ্যগুলো ম্যানুফ্যাকচার করো তাহলে বাজারজাত করা তোমার জন্য আরও বেশি সুবিধাজনক হবে।  কারণ বহুজাতিক কোম্পানিগুলো এমনিতেই নিজেদের মধ্যে কম্পিটিশন করছে সেখানে কোন ব্র্যান্ড ছাড়া ভাল মানের পণ্য বাজারে ঢুকলে লোকাল ব্রান্ড ভ্যালু এমনিতেই তৈরী হয়ে যায়। তাই সাদা পেপারকে কাজে লাগিয়ে তুমি তোমার পণ্য বাজারজাত করে খুব সহজেই বাজারে সুনাম অর্জন করতে পারো। 

কেমন পুঁজি বিনিয়োগ করতে হবে? 

খাদ্য ম্যনুফ্যাকচারিং কারখানা করার জন্য যদি তোমার নিজস্ব কোন জায়গা থেকে থাকে তবে সেটা তোমার জন্য প্লাস পয়েন্ট। অন্যথায় একটি ভালো কারখানা ভাড়া নিতে হবে।একটি ম্যানুফ্যাকচারিং মেশিন প্রায় ৮০ হাজার রুপির মত দাম পড়ে। তোমার কোম্পানির ম্যানুফ্যাকচারিং বিভিন্ন ধরনের পরিমাপের করার প্যাকেটের জন্য তোমাকে আরো ৬০ থেকে ৭০ হাজার রুপি ব্যয় করতে হতে পারে। এছাড়াও মসলা গুড়া করার মেশিন তো লাগবেই।  প্রাথমিকভাবে কারখানা নিজস্ব হলে তোমার আড়াই লক্ষ থেকে তিন লাখ রুপির মতো খরচ হবে। আর কর্মী বেতন তো থাকছেই। কাঁচামাল কেনা বাবদ খাদ্য ম্যনুফ্যাকচারিং করার পরের ৩ মাস পর্যন্ত তোমাকে পুঁজি বিনিয়োগ করতে হতে পারে। যাইহোক, একবার পুঁজি বিনিয়োগ করলে তোমাকে আর পেছনে ফিরে তাকাতে হবে না।  

কেমন আয় হয়? 

খাদ্য ম্যানুফ্যাকচারিংয়ের ব্যবসা ইন্ডিয়াতে আজকাল খুবই ভালো চলছে। বিশেষ করে এই ম্যানুফ্যাকচারিং টা যদি মসলার ক্ষেত্রে হয় তবে তো কথাই নেই। খাবারের স্বাদ বাড়াতে বাসাবাড়ি থেকে শুরু করে ফাইভ স্টার হোটেল পর্যন্ত মশলার কদর রয়েছে। এছাড়াও আজকাল আমাদের দেশের মশলা বিদেশেও রপ্তানি হচ্ছে। তাই এর বাজার আজকাল খুবই ভালো। তুমি প্রতি ১০০ গ্রাম মশলা ম্যানুফ্যাকচারিং করে ২৫ থেকে ৩৫ শতাংশ পর্যন্ত আয় করতে পারো। আর সাদামাঠা পেপারে ম্যনুফ্যাকচার করলে আয়ের পরিমাণ আরও বৃদ্ধি পাবে। 

ম্যনুফ্যাকচারিং ব্যবসা অত্যন্ত লাভজনক ব্যবসা। চিনি থেকে চাল ডাল এমনকি বিভিন্ন শাক সবজি ফলমূল আজকাল ম্যনুফ্যাকচারিং করে বাজারজাত করা হয়। কৃষি পণ্য বাজারজাত করতে তেমন কোন মেশিনেরো প্রয়োজন পরে না তাই তুমি চাইলে এই পণ্য নিয়েও কাজ করতে পারো। যাইহোক মশলার চাহিদাও কিন্তু আজকাল কম নয়। দেশের গন্ডি পেরিয়ে বিদেশেও ভারতীও মশলার চাহিদা রয়েছে তুমি সহজে সবালম্বী হতে চাইলে এর যে কোন টা নিয়ে কাজ করতে পারো।  

 

 

Related Posts

None

হোয়াটসঅ্যাপ বিপণন


None

জিএসটি এফেক্ট কিরণ স্টোর


None

হাসান নিচ্ সাধারণ দোকানে জন্য কোড


None

মুদি দোকান


None

কিরানার দোকান


None

ফল এবং সবজি দোকান


None

বেকারি ব্যবসা


None

হস্তশিল্প ব্যবসা


None

অটোমোবাইল আনুষাঙ্গিক