written by | October 11, 2021

জিরক্স ব্যবসায় মুদ্রণ

কীভাবে মুদ্রণ দোকান (জেরক্স শপ) ব্যবসা শুরু করবে

প্রিন্টিং ব্যবসা বর্তমান সময়ে সবথেকে লাভজনক ব্যবসায়িক ধারণা গুলোর মধ্যে একটি। এই ব্যবসা শুরু করতে যেমন পুঁজি কম বিনিয়োগ করতে হয় তেমনি লাভও দেয় অধিক। আজকাল প্রচলিত প্রিন্টিং ধারণা পরিবর্তন হয়ে সম্পূর্ণ প্রযুক্তি নির্ভর হয়ে পড়েছে। তাই কাগজ মুদ্রণ থেকে, শুরু করে ক্যাপ প্রিন্ট, প্রিন্টেড মগ, কলম প্রিন্ট, ক্রেস্ট প্রিন্ট, প্লেট প্রিন্ট, টি শার্ট প্রিন্ট, চাদর প্রিন্ট এমনকি বড় বড় ব্যানারও ও পোস্টার সহ অনেক কিছু এই ব্যবসার আওতায় চলে এসেছে। বর্তমানে গ্রাহকদের কাছে এই ব্যবসাটি প্রিন্ট অন ডিমান্ড নামেও বেশ সুপরিচিত এবং এর  চাহিদাও ব্যাপোক। তাই তুমিও চাইলে এই ব্যবসায় বিনিয়োগ করে একজন সফল ব্যবসায়ী হিসেবে গড়ে উঠতে পারো। 

কিভাবে সহজেই মুদ্রন ব্যবসা শুরু করা যায়? 

মুদ্রণ ব্যবসা সজেই শুরু করতে চাইলে তুমি প্রিন্ট অন ডিমান্ড ব্যবসা শুরু করে দিতে পারো। এটি এমন একটি ব্যবসা যেখানে তুমি পণ্য স্টক না করে শুধু একটা ব্যবসায়িক ওয়েব সাইট ব্যবহার করে ভালো আয় করতে পারবে। তোমার যা দরকার পরবে তা হলো শৈল্পিক জ্ঞান ও মুদ্রন অভিজ্ঞতা। এগুলো থাকলে এই ব্যবসা করে খুব সহজেই সুনাম করা যায়। 

তোমার গ্রাহকেরা যখন তোমাকে অর্ডার করবে তখন তুমি পণ্য কারো কাছ থেকে ধারে এনে সেগুলো গ্রাহকের চাহিদা অনুযায়ী প্রিন্ট করে দিলে। পণ্য প্রিন্ট হয়ে গেলে তোমার গ্রাহক কে পণ্য সরবরাহ করে তোমার পাওনা বুঝে নিলে হয়ে গেলো। এমন প্রিন্টিং ধারণা থেকে পুজিবিহীন বা অল্প পুঁজি দিয়ে তুমি ব্যবসা পরিচালনা করতে পারবে। 

প্রিন্টঅনডিম্যান্ড ব্যবসা কেন শুরু করবে? 

তোমার প্রিন্টিং ব্যবসা শুরু করার জন্য তোমার কোন ওয়েব ডিজাইনারের প্রয়োজন নেই একটু অনুসন্ধান করেই তুমি  হাজার হাজার ফ্রি থিম এবং ডিজাইন অনলাইনেই পেতে পারো। এছাড়াও গোডাডি এবং বিগরকের মতো শীর্ষস্থানীয় সমস্ত ওয়েব হোস্টিং সংস্থাগুলিতে একটি ইকমার্স স্টোর শুরু করার জন্য ফ্রি টেমপ্লেট সরবরাহ করে 

প্রচলিত ব্যবসা শুরু করার বিরোধিতা হিসাবে, প্রিন্ট অনডিমান্ডে মোটা বিনিয়োগের প্রয়োজন নেই তোমার সত্যিই যা প্রয়োজন তা একটি ইকমার্স স্টোর বা তোমার ব্যবসার নামে ওয়েবসাইট এবং লোভনীয় পণ্য ডিজাইন যা তোমার ক্রেতাদের তোমার দিকে তাদের আগ্রহ বাড়াবে এবং তোমার পণ্য কিনতে তাদেরকে বাধ্য করবে। 

এরপরে তুমি চাইলে নিজস্ব মেশিন দিয়ে প্রিন্ট করিয়ে দিতে পারো। অথবা অর্ডার নিয়ে কোন প্রিন্ট প্রতিষ্ঠানে গিয়ে তোমার কোম্পানির নামে গ্রাহকের চাহিদা অনুযায়ী প্রিন্ট করে নিতে পারো। এতে করে তুমি বিনা পুঁজিতে বা স্বল্প বিনিয়োগ করেই প্রিন্টিং ব্যবসা শুরু করে দিতে পারো। 

সরকারী অনুমতির প্রয়োজন হয় কি না? 

আসলে যে কোন ব্যবসাতেই সরকারী অনুমতির প্রয়োজন হয়। আজকাল অনলাইন ব্যবসা শুরু করার জন্যেও তো অনুমতি লাগে। তবে তোমার ব্যবসা যদি কোন বড় ই কমার্স সাইটে কোন একটা স্টোর নিয়ে শুরু করো তবে তোমার কোন সরকারী অনুমতির প্রয়োজন নেই। অন্য দকে যদি দোকান দাও বা নিজের ব্যবসার নামে ওয়েবসাইট খুলে সেখান থেকে ব্যবসা চালাও তবে তোমাকে সরকারের অনুমতি নিতে হবে। সেক্ষেত্রে তোমাকে ট্রেড লাইসেন্স সংগ্রহ করতো স্থানীয় সরকার বিভাগে গিয়ে অনলাইনে ব্যবসা করার জন্যেও অনুমতি নিতে হবে।  

কি কি প্রিন্টিং মেশিনের প্রয়োজন হয়? 

প্রথমেই তোমাকে বলেছি মিডইল ম্যান হিসেবে কাজ করতে চাইলে কোন মেশিন কেনার প্রয়োজন নেই। আর যদি তুমি মেহসিন কিনতে চাও তবে কাগজ, টি শার্ট, ক্যাপ, কলম, ক্রেস্ট, ব্যানার, মগ এর সব কিছু  প্রিন্ট করার জন্য আলাদা আলাদা মুদ্রন যন্ত্র কন্তে হবে। টি শার্ট ও ক্যাপ প্রিন্ট করার পরে ইস্তেরীও করতে হয় তাই ইস্তেরীও তোমাকে কিনে নিতে হবে। তবে ছোট করে শুরু করতে চাইলে তুমি যে কোন একটা বিষয়কে ধরে নিয়ে ব্যবসাটি শুরু করে দেতে পারো। 

প্রচার-প্রচারণা কি করে হবে? 

যে কোন ব্যবসার শুরুতে প্রচারপ্রচারণা টাই আসল। তুমি যদি প্রিন্ট-অন-ডিমান্ড ব্যবসা শুরু করতে চাও তবে তোমার প্রচার প্রচারণা একদম অনালিন নির্ভর হওয়া দরকার। অন্যদিকে কোন দোকান দিয়ে শুরু করলে তুমি নিজস্ব মানুষদের কে বলে তাদের অর্ডার তোমার কাছে করাতে পারো। ব্যবসার নামে মাইকিং ব্যানার ও করা যেতে পারে। সেই সাথে অনালাইন ও সামাজিক যোগাযগ মাধ্যমেও প্রচার প্রচারণা চালানো যেতে পারে। 

কর্মীর দরকার হয় কিনা ? 

তোমার ব্যবসা যদি ছোট হয় আর তুমি নিজেই যদি প্রিন্টিং এ দক্ষ হয়ে থাকো তবে একটি ছোট ব্যবসা শুরু করতে তোমার তেমন কর্মী না হলেও চলবে। আর যদি ব্যবসাটি বড় করে করতে চাও তবে দক্ষ কর্মীর দরকার আছে। আসলে তোমার ব্যবসা যত বড় হবে ততো বেশী কর্মীর দরকার পরবে। এছাড়াও কারখানা বড় হলে দক্ষ কর্মীর প্রয়োজন তো আছেই। তাই কর্মী বাছাই কয়ার সময় দেখেশুনে বাছাই করতে হবে অন্যথায় তাদের প্রশিক্ষণেরও ব্যবস্থা করা যেতে পারে। 

কেমন পুঁজি বিনিয়োগ করতে হতে পারে ?  

পুঁজির বিষয়টা আসলে নির্ভর করে তুমি কত বড় করে ব্যবসা শুরু করতে যাচ্ছ তার উপরে।  যে কোন ব্যবসায় পুঁজি যত ইচ্ছে ততো বিনিয়োগ করা যায়। তুমি যদি সনাতন পদ্ধতিত্র প্রিন্টিং ব্যবসা চালু করতে চাও তবে ৫ হাজার রুপি পুঁজি বিনিয়োগ করলেই চলবে। অন্যদিকে যেকোন ধরনের একটা প্রিন্টিং মেশিন নিয়ে কাজ করতে চাইলে ১৫ থেকে ৫০ হাজার রুপি তোমাকে মেশিনের কোয়ালিটি ভেদে বিনিয়োগ করতে হতে পারে। 

এছাড়াও, তুমি নিজের ওয়েবসাইটে ব্যবসা শুরু করতে চাইলে সেটার খরচা, দোকান বা কারখানা দিলে তার মাসিক ভাড়া যদি নিজস্ব না হয়ে থাকে এবং তোমার কর্মী রাখতে হলে তার বেতন লাগবে। অন্যদিকে তুমি মিডল ম্যান হয়ে এসব ঝামেলা না করে শুধু মাত্র একটা ওয়েবসাইট করে এই ব্যবসা চালিয়ে যেতে পারবে। সেক্ষত্রে তোমার কোন পুঁজি বিনিয়োগের প্রয়োজন পরবে না। 

কেমন আয় হবে? 

প্রিন্টিং ব্যবসায় বিনিয়োগের তুলনায় আয় বেশী হয়ে থাকে। তুমি যদি শার্ট প্রিন্ট করো তবে প্রতি পিসে তুমি ৫০ থেকে ২৫০ রুপি পর্যন্ত আয় করতে পারবে। সিরামিকের মগ প্রিন্ট করে ২০০ থেকে ৪০০ রুপি, ক্রেস্ট প্রিন্ট করে ৩০০ থেকে ১৫০০ রুপি, ক্যাপ প্রিন্ট করে ১০ থেকে ২৫ রুপি, কলম প্রিন্ট করে ৫ থেকে ২০ রুপি, ব্যানার প্রিন্ট করে সর্বনিম্ন ৪০০ রুপি আয় করতে পারো। প্রতি পিসে যদি এরকম আয় হয় তবে একেবারে অনেক গুলো অর্ডার পেলে তোমার কেমন আয় হবে। একটু ভাবলেই তুমি বুঝতে পারবে। 

বর্তমান সময়ে সবাই তার নিজের বা ব্যবসার প্রচার প্রচারনা করতে খুব বেশী পচন্দ করে তাই গ্রাম এলাকাতে পোস্টার বা ব্যানার প্রিন্টিং এর চাহিদা ব্যপক। উপহার হিসেবে ক্রেস্ট, টি শার্ট বা মগ এগুলোর প্রিন্টিং চাহিদাও ব্যপোক। আবার যে কোন ধরনের ইভেন্টে আজকাল প্রিন্টিং টিশার্ট এর চাহিদাো রয়েছে। তাই বলতে গেলে এই ব্যবসাটি একদম নির্ভেজাল ও লাভজনক একটি ব্যবসা। তাই তুমিও চাইলে এই ব্যবসায় ভালো করতে পারো। 

Related Posts

None

হোয়াটসঅ্যাপ বিপণন


None

জিএসটি এফেক্ট কিরণ স্টোর


None

হাসান নিচ্ সাধারণ দোকানে জন্য কোড


None

মুদি দোকান


None

কিরানার দোকান


None

ফল এবং সবজি দোকান


None

বেকারি ব্যবসা


None

হস্তশিল্প ব্যবসা


None

অটোমোবাইল আনুষাঙ্গিক