written by | October 11, 2021

খাম তৈরির ব্যবসা

একটি খাম তৈরির ব্যবসায় কীভাবে শুরু করবেন

সাধারণত খামে করে অফিস-আদালত, ব্যবসা-বাণিজ্য, স্কুল-কলেজের জরুরি কাগজপত্র ও চিঠিপত্র পাঠানো হয়। এছাড়া নববর্ষ, ঈদ, পূজা, হালখাতা, সেমিনার, বিয়ে, জন্মদিন ইত্যাদির দাওয়াতপত্র ও শুভেচ্ছা কার্ড বিভিন্ন রকম খামে ভরে পাঠানো হয় । তাই খামের চাহিদা সব সময় থাকে। বিভিন্ন মাপের খাম তৈরি করে অফিস-আদালত ও স্টেশনারি দোকানে সরবরাহ করে আয় করা সম্ভব।

সুবিধা

এই ব্যবসা শুরু করতে তুলনামূলক কম পুঁজি লাগে। খুব সহজেই নিজের পরিবারের সসবাই মিলে এই কাজ করা যায়।  যে সকল ব্যবসায় লাভ বেশি তার মধ্যে এটি একটি।  এব্যবসায়  ঘরে বসে খাম বিক্রি করা যায়। আপনি ইচ্ছে করলে দোকান নিয়েও বিক্রি করতে পারেন। তাছাড়া পাইকার বা খুচরা দোকানদারদের কাছেও খাম বিক্রি করা যায়। শহর বা গ্রাম সব জায়গায় এ ব্যবসার চাহিদা রয়েছে তাই এই ব্যবসা খুব সহজে কম পুঁজি বিনিয়োগ করেই করা যায়। 

অসুবিধা

কাগজের খাম বানানোর সময় ভাঁজটা ঠিকমতো দিতে হবে। ভাঁজটা এলোমেলো হলে খাম সুন্দর দেখাবে না। সেক্ষেত্রে খাম খারাপ দেখা যেতে  পারে এবং পরিশ্রম বৃথা যেতে পারে।  খামের যেসব অংশে আঠা লাগানো হয়, তা ভালো করে শুকিয়ে নিতে হবে। ভালোমতো না শুকালে জোড়া দেওয়া জায়গার কাগজ খুলে যেতে পারে। এছাড়াও বৃষ্টি ও জল আছে এমন স্থান থেকে খাম ও প্রস্তুত করার জিনিস গুলো সরিয়ে রাখতে হবে অন্যথায় ভিজে গেলে পুরোটাই লস যাবে। 

বাজার সম্ভাবনা

অফিস-আদালত, ব্যবসা-বাণিজ্য, স্কুল-কলেজের জরুরি কাগজপত্রসহ বিভিন্ন উৎসব-পার্বণে নানা রকম খামে করে প্রয়োজনীয় বার্তা বা উপহার পাঠানো হয়। সঙ্গত কারণে এর বিশাল বাজার রয়েছে। এছাড়াও, মিষ্টির দোকান, কস্মেটিক এর দোকান বা সুপার শপ আজকাল সব জায়গাতে কাগজের তৈরী খামের বিশাল চাহিদা রয়েছে। এমনকি কাপড়ের দোকান গুলোতেও পণ্য খামে ভরে ক্রেতার হাতে তুলে দেওয়া হয়। অনলাইন মার্কেট গুলোতেও পণ্য ডেলিভারি দেওয়ার সময়ে খামে ভরেই ক্রেতার কাছে পাঠানো হয়ে থাকে। 

কিভাবে শুরু করবেন?

এই ব্যবসাটি শুরু করতে হলে আপনাকে অনেক ভেবে-চিন্তে শুরু করতে হবে।  আপনার প্রাথমিক অবস্থায় পুঁজি যদি কম হয় তাহলে আপনার আশেপাশের যে কোন কারখানা থেকে সংগ্রহ করে শুরু করতে পারেন।  প্রাথমিক অবস্থায় আপনি একটি কাটার মেশিন ও একজন কর্মচারী নিয়োগ করে ব্যবসাটি শুরু করতে পারেন।  স্থান নির্বাচনের ক্ষেত্রে আপনার চাহিদার উপর নির্ভর করে আশেপাশের বাজার অবস্থা ও চাহিদা ও আপনার সুবিধার দিকে লক্ষ্য রেখেই স্থান নির্বাচন করুন।  উৎপাদিত পণ্য পাইকারি দরে বিক্রি করার চেষ্টা করুন। মনে রাখবেন,  আপনার ব্যবস্থাটি উৎপাদনমুখী ব্যবসা। তাই বাজারের আশেপাশে কারখানা হলে ব্যবসার ম্যাটেরিয়াল ও অন্যান্য জিনিসপত্রও আপনি খুব সহজেই পেয়ে যাবেন। 

উপকরণ

কাগজের কাম তৈরী করতে খুব বেশী কিছুর দরকার হয় না। কাগজ, কাগজ কাটার মেশিন, আটা, পানি, হাতুড়ি, বাটাল, ফর্মা, সুতা, পিচবোর্ড, সিজার, তুঁতে, গামলা প্রভৃতি দিয়েই খাম বানানোর কাজ সমাধা করা যায়। সুতরং একজন মোটামুটি দক্ষতা সম্পন্ন মানুষ ইচ্ছে করলে নিজেই এ সকল জিনিস দিয়ে খাম প্রস্তুত করতে পারে।  

র-মেটেরিয়াল কোথায় পাবেন? 

খাম তৈরি করার জন্য যে সকল কাগজ দরকার হয় তা আপনি আপনার শহরের যেকোনো পাইকারি দোকান এ পেয়ে যাবেন।  আর এটা আপনি নিজেই তৈরি করতে পারবেন অথবা বাজার থেকে কিনে নিতে পারবেন।  এছাড়া অন্যান্য জিনিসপত্র দিয়ে যা কিছু দরকার হয় তা খুব সহজেই আপনার নিজের শহরে হাতের নাগালে পেয়ে যাবেন। 

যেভাবে তৈরি করবেন

কাগজের খাম তৈরি করা শেখার কোনো প্রশিক্ষণকেন্দ্র নেই। তবে অভিজ্ঞ কোনো ব্যক্তির কাছ থেকে খাম তৈরির নিয়ম হাতে-কলমে শিখে নিতে পারেন। নীলক্ষেতের খাম ব্যবসায়ী আমির হোসেন জানান, অফসেট কাগজেই বেশি খাম তৈরি হয়। এ ছাড়া ক্রব কাগজ দিয়েও করা হয়। কাগজ তৈরিতে নানা রঙের কাগজ ব্যবহার করা হয়।

বিভিন্ন প্রকার খাম বিভিন্ন পদ্ধতিতে তৈরি করা হয়। একবার দেখে নিলেই শেখা যায়। নানা আকারের খাম আছে। তবে ১০/৪ সাইজের খামের চাহিদা বেশি। গ্রাহকের চাহিদা অনুসারে খাম তৈরি করতে হবে।

কি কি আইটেমের খাম তৈরী করতে পারেন 

আজকাল গ্রাহকের কাছে প্রচলিত বা ভালো লাগে এমন  অনেক আইটেমের খাম রয়েছে।  ক্রেতার চাহিদা অনুযায়ী সেগুলো তৈরি করার চেষ্টা করবেন। চেষ্টা করবেন আপনার তৈরি খাম গুলো যেনো একটু ভিন্ন হয়। আপনি যদি এ ব্যাপারে না জানেন তাহলে আপনার আশেপাশে কয়েকটি কারখানা দেখে নিতে পারেন। তবে মনে রাখতে হবে খামগুলো বানিয়ে নিতে হবে। গিফট দেওয়ার জন্য প্রচলিত বা ডিজাইন করা খামগুলো স্পেশালি একটু যত্ন করে আলাদাভাবে ডিজাইন করে বানাতে হবে।  

বাজারজাতকরণ

বিভিন্ন স্টেশনারি দোকানে পাইকারি দরে খাম বিক্রি করা যায়। প্রথম দিকে দোকানে গিয়ে পণ্য দিয়ে আসতে হবে। পরিচিত হয়ে যাওয়ার পর তারাই যোগাযোগ করবে। এ ছাড়া বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বা অফিসে যোগাযোগ করে অর্ডার নিতে হবে। খাম পচনশীল পণ্য নয় বলে এতে তেমন ঝুঁকি নেই। তবে খেয়াল রাখতে হবে, যাতে কোনোভাবেই পানিতে না ভেজে এবং ময়লা না হয়।

কোথায় কোথায় বিক্রি করবেন 

আপনারা এখানে তৈরি করা কাগজের খাম গুলো বিভিন্ন জায়গায় বিক্রি করতে পারেন। তবে মনে রাখতে হবে প্রতিষ্ঠানভেদে আপনার খাম গুলো যেন আলাদা আকারের হয়।  স্টেশনারীর  জন্য একরকম খাম তৈরি করবেন, ফটোকপির দোকানের জন্য একরকম খাম তৈরি করবেন, এছাড়াও মিষ্টির দোকান আছে তাদের জন্য আলাদা আলাদা খাম মানে প্রতিটা ব্যবসার জন্য আলাদা আলাদা খাম  আপনি তৈরি করে বিক্রি করতে পারেন। স্থানীও বাজারের দোকানে বিক্রি করার সবথেকে ভালো হবে। সেক্ষেত্রে আপনি আপনার আশেপাশের দোকানগুলোতে যাচাই করে তাদের কাছ থেকে অর্ডার সংগ্রহ করে তাদের কাছে পাইকারি ও খুচরা দরে খাম বিক্রি করতে পারেন। 

অভিজ্ঞতা 

এই ব্যবসাটি শুরু করতে হলে আপনাকে অবশ্যই একজন অভিজ্ঞ কারিগর হতে হবে।  অন্যথায় অভিজ্ঞ কারিগর নিয়োগ দিয়ে ব্যবসাটি শুরু করতে হবে। মনে রাখবেন আপনার অভিজ্ঞতাই পারে ব্যবসাটিকে এগিয়ে নিতে। এই ব্যবসার পুরো প্রক্রিয়াটি হাৎ দিয়ে কাজ করে সম্পন্ন করতে হবে। যদি এমন  অভিজ্ঞতা না থেকে থাকে তবে কয়েক মাস এমন একটি কারখানায় কাজ করে খাম বানানোর ব্যাপারে অভিজ্ঞতা সঞ্চয় করতে পারেন।  এতে করে আপনি লাভবান হবেন। 

লাভের হিসাব

খামের দাম খুব বেশি ওঠানামা করে না। তবে কঁাঁচামালের দাম বিভিন্ন সময় কমবেশি হয়। একজন কারিগর সাধারণত এক দিনে প্রায় ২০০০ খাম তৈরি করতে পারে।

বিভিন্ন মাপের এক হাজার খাম তৈরি করতে খরচ হয় ২০০ থেকে ১০০০ টাকা। বিক্রি হয় ৪০০ থেকে ৩০০০ টাকা। যোগাযোগ খুব গুরুত্বপূর্ণ। যোগাযোগ ভালো থাকলে এ ব্যবসায় দ্রুত উন্নতি করা যাবে।

যাইহোক ব্যবসাটি বর্তমান সময়ে অত্যন্ত লাভজনক যা স্বল্প পুঁজি বিনিয়োগ করেই শুরু করা যায়। তাই আপনি চাইলে এই ব্যবসাটি করে খুব সহজেই নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে পারেন। 

 

Related Posts

None

হোয়াটসঅ্যাপ বিপণন


None

জিএসটি এফেক্ট কিরণ স্টোর


None

হাসান নিচ্ সাধারণ দোকানে জন্য কোড


None

মুদি দোকান


None

কিরানার দোকান


None

ফল এবং সবজি দোকান


None

বেকারি ব্যবসা


None

হস্তশিল্প ব্যবসা


None

অটোমোবাইল আনুষাঙ্গিক