written by | October 11, 2021

কোল্ড স্টোরেজ ব্যবসা

কিভাবে কোল্ড স্টোরেজের ব্যাবসা শুরু করা যায়?

প্রতি ধরনের শস্যের ফলনেরই একটি নির্দিস্ট সময় রয়েছে। একটি নির্দিস্ট রিতুতে, একটি নির্দিস্ত সময়ে এবং একটি নির্দিস্ট আবহাওায় সেই ফসলের উৎপাদন করা হয়। তবে তাই বলে সেই ফসলের চাহিদা কখনই হ্রাস পায় না। সারাবছর যাবৎ সেই ফসলের চাহিদা একই রকম হয়। এই নীতি শুধু ফসলের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। অন্যান অনেক খাদ্যদ্রব্যের ক্ষেত্রেও এই নীতি প্রযোজ্য। তাই বহুকাল ধরেই নানারকম উপায়ে এইসকল খাদ্যসামগ্রী সংরক্ষণের চেষ্টা করা হচ্ছে। তবে কোন উপায়ই সম্পূর্ণভাবে খাদ্যদ্রব্যকে সারাবছর যাবৎ সংরক্ষন করা সম্ভব হচ্ছিল না। সেই সময়ই কোল্ড স্টরেজের প্রচলন হয়।কোল্ড স্টোরেজ হল এমন একটি ব্যাবস্থা যেখানে সম্পূর্ণ একটি ঘরের বা বাড়ির তাপমাত্রা খুব কম করে রাখা হয়। এই কম তাপমাত্রার কারনে সমস্ত খাদ্যদ্রব্যের পচনক্রিয়া খুবই ধীর হয়ে যায়। আর সেই কারনে খাদ্যদ্রব্য বা অন্যান পচনশীল দ্রব্য দীর্ঘদিন অবধি ব্যাবহারের যোগ্য থাকে। 

এই সমস্ত কারনের জন্য কোল্ড স্টোরেজ বর্তমানের সবচেয়ে বেশি প্রচলিত ব্যাবসাগুলির মধ্যে একটি হয়ে দাঁড়িয়েছে। রেস্টুরান্ট, বাজার, ফুলের ব্যাবসায়ি থেকে সুরুকরে এমনকি হাস্পাতালের সামগ্রী ঠিক রাখতেও বর্তমানে তারা কোল্ড স্টোরেজের সাহায্য নিয়ে থাকে। তাই আপনি যদি নিজে কোন নতুন ব্যাবসা শুরু করার কথা চিন্তা করে থাকেন, তবে কোল্ড স্টোরেজের ব্যাবসার কোথাও আপনার একবার ভেবে দেখা দরকার। তবে সঠিক ধারনা ছাড়া আমরা যদি ব্যাবসা শুরু করতে জাই তবে ব্যাবসার উন্নতিসাধন তো কঠিন হয়েই যায়, এমনকি ব্যাবসার ক্ষতিসাধনও হতে পারে। তাই আপনি আপনার ব্যাবসার পরিকল্পনা প্রস্তুত করা শুরু করার আগে আপনার উচিত হবে বিস্তারিতভাবে এই ব্যাবসা সম্পর্কে জেনে নেওয়া। তাই আসুন আমরা এই বিষয়ে কিছু খুব গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জেনে নিই।

কোল্ড স্টোরেজ ব্যাবসার প্রকারভেদ

কোল্ড স্টোরেজ ব্যাবসায় নামার আগে আমাদের জানতে হবে যে কোল্ড স্টোরেজ ব্যাবসার প্রকারভেদ সম্পর্কে। কোল্ড স্টোরেজ সাধারনত দুই প্রকারের হয়। আসুন আমরা তাদের সম্পর্কে জেনে নিই।

১)একপন্যের জন্য ব্যাবহ্রিত কোল্ড স্টোরেজ-

যে সমস্ত পন্যের চাহিদা অত্যধিক, তাদের সংরক্ষন করার জন্য জায়গার প্রয়োজনও প্রচুর। তা ছাড়া কিছু এমন পণ্যও দেখা যায় জাকে অন্য কোন পন্যের সাথে এক জায়গায় সংরক্ষন করলে সেই পন্যের ক্ষতি হতে পারে। সেই কারনে বেশ কিছু পন্যের জন্য সম্পূর্ণ পৃথক একটি কোল্ড স্টোরেজ  তৈরি করা হয়। সাধারনত আলু জাতিয় দ্রব্যের সংরক্ষণের জন্য এই ধরনের কোল্ড স্টোরেজ দেখা যায়। যেহেতু এই স্টোরেজে সংরক্ষিত পন্য বছরের এক সময়ে উৎপাদিত হয় এবং সারা বছরব্যাপি চাহিদা দেখা যায়, তাই এই ধরনের কোল্ড স্টোরেজের ব্যাবসা শুরু করলে সহজেই ব্যাবসায় উন্নতি করা যেতে পারে।

২)একাধিক পন্যের জন্য ব্যাবহ্রিত কোল্ড স্টোরেজ-

এই ধরনের কোল্ড স্টোরেজ যেকোনো এক ধরনের পয়ের উপর জোর দেয় না। তারা একই কোল্ড স্টোরেজের মধ্যে বিভিন্ন স্থানে একাধিক পন্যের সঞ্চয় করেন। এই কোল্ড স্টোরেজে পন্য রাখার সময় সাধারণত খজ নেওয়া হয় যে কোন ধরনের পন্য সংরক্ষনের চাহিদা আছে। সেই অনুযায়ী সেই পন্যের উৎপাদনকারীদের সংরক্ষণের ব্যাবস্থা করে দিয়ে এই ধরনের কোল্ড স্টোরেজ অর্থ উপার্জন করে। এই ধরনের কোল্ড স্টোরেজ তৈরি করা এক পন্যের জন্য ব্যাবহ্রিত কোল্ড স্টোরেজের থেকে বেশি হয়। কারন যখন একাধিক পন্য একসাথে সংরক্ষন করা হয়, তখন সেই ব্যাবস্থা এমনভাবেই করতে হবে যাতে এদের মধ্যে কোন দুটি পন্য পরস্পরের সংস্পর্শে আসে। কারন তা হলে এই পন্যগুলি ক্ষতিগ্রস্থ হতে পারে। সেই কারনে এই ধরনের কোল্ড স্টোরেজ তৈরি করার খরচ অনেক বেশি।

কোল্ড স্টোরেজ ব্যাবসার প্রাথমিক খরচ

বিনিয়গ না করলে কোন ব্যাবসাতেই আমরা মুনাফা অর্জনের আসা করতে পারি না। তাই যেকোনো ব্যাবসা শুরু করার আগে আমাদের জানতে হবে সেই ব্যাবসার জন্য প্রাথমিক বিনিয়গ বা প্রাথমিক খরচ কি কি। আর তাই আপনি যদি কোল্ড স্টোরেজ ব্যাবসা শুরু করতে ইচ্ছুক হয়ে থাকেন, তবে আপ্নাকেও জেনে নিতে হবে সেই ব্যাবসার প্রাথমিক খরচ গুলি। 

১)হিমযন্ত্র-

হিমযন্ত্র এই ব্যাবসার ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি সরঞ্জাম। আপনার কোল্ড স্টোরেজ যে আকারের হবে সেই আকার অনুযায়ী প্রয়োজনীয় সংখ্যক হিমযন্ত্র আপনাকে ক্রয় করতে হবে। তবেই আপনি আপনার প্রয়োজনমত কোল্ড স্টোরেজ বানাতে পারবেন।

২)প্রয়োজনীয় বাড়ি বা কারখানা-

কোল্ড স্টোরেজের ব্যাবসা আপনি যথেষ্ট পরিমান জমি এবং আপনার প্রয়োজনীয় আকারের বাড়ি না পেলে শুরু করতে পারবেন না। তাই ব্যাবসার প্রাথমিক স্তরেই এই ব্যাবস্থা আপনাকে করে ফেলতে হবে।

৩)কোল্ড স্টোরেজ গঠন-

আপনি বাড়ি বা কারখানা এবং হিমযন্ত্রের ব্যাবস্থা করে রাখলে তারপর আপনার সামনে আরও একটা বড় খরচা এসে উপস্থিত হয়। সেটা হল কারখানায় হিমযন্ত্রগুলিকে বসান এবং কোল্ড স্টোরেজ তৈরি করা।

এই তিনটিই কোল্ড স্টোরেজের ব্যাবসার প্রাথমিক খরচ। এছাড়া আরও বেশ কিছু খরচ বা বিনিয়গ আছে যা সম্পূর্ণ হলে তবেই আপনি এই ব্যাবসা শুরু করতে পারবেন।

কোল্ড স্টোরেজ ব্যাবসার সুবিধা 

কোল্ড স্টোরেজ ব্যাবসা খুব আধুনিক প্রজুক্তি নির্ভর একটি ব্যাবসা। তাই এই ব্যাবসায় এমন কিছু সুবিধা পাওয়া যায় জাবর্তমান যুগের ব্যাবসায়িক ক্ষেত্রে খুবই সাহায্য করে। তাই আসুন আমরা জেনে নিই এই সুবিধাগুলি সম্মন্ধে।

১)দীর্ঘস্থায়ী চাহিদা-

বর্তমান জুগে এমন বহু ক্ষেত্রে দেখা গেছে যখন কোন এক পন্য প্রচুর চাহিদা নিয়ে বাজারে প্রবেশ করে। তবে খুব কম সময়ের মধ্যেই সেই পন্যের চাহিদা চলে যায়। তবে কোল্ড স্টোরেজের ব্যাবসায় তা হওার সম্ভাবনা নেই। কারন কোল্ড স্টোরেজ বর্তমানে আমাদের জিবনে এমন ভাবেই জড়িয়ে গেছে যে তা ছাড়া আমাদের দিনের একটি মুহুর্তও ছল্বে না।

২)প্রকৃতি বদল-

আমরা আগেই জানিয়েছি যে কোল্ড স্টোরেজের ব্যাবসা মুলত দুই প্রকৃতির। আর এই ব্যাবসার এক অন্যতম সুবিধা ও হল এই যে আপনি চাইলেই খুব কম খরচে আপনার কোল্ড স্টোরেজকে এক প্রকৃতি থেকে অন্য প্রকৃতিতে পরিবর্তন করতে পারেন খুব অল্প খরছেই। এতে আপনি প্রয়োজনে চাহিদা অনুযায়ী নিজের ব্যাবসার রুপ বদল করতে পারবেন।

কোল্ড স্টোরেজ ব্যাবসার অসুবিধা

কোল্ড স্টোরেজ ব্যাবসার মূল অসুবিধা একটাই। তা হল এই ব্যাবসায় অবতরন করতে গেলে প্রচুর অর্থের প্রয়োজন। আমরা আগেই প্রাথমিক বিনিয়োগের কথা বলার সময়ে জেনেছি কি কি ক্ষেত্রে আমাদের প্রাথমিক ভাবে অর্থ খরচ করতে হয়। আর আমরা জানি এর প্রতিতা ক্ষেত্রেই অর্থ বিনিয়গ করা মানে প্রচুর পরিমানে অর্থ একসময়ে খরচ করে ফেলা। তাই এই ব্যাবসা শুরু করার আগে প্রাথমিকভাবে আমাদের দেখে নিতে হবে যাতে দীর্ঘ কালে আমাদের অর্থের সংস্থানে সমস্যা না হয়।

এতক্ষন আমরা চলদ স্টোরেজ ব্যাবসা সম্পর্কে আলছনা করলাম। আমরা এই ব্যাবসার প্রকৃতি সম্পর্কে জানলাম যাতে আমরা আগে থেকেই সিদ্ধান্ত নিতে পারি কোন ধরনের কোল্ড স্টোরেজের ব্যাবসা আমরা করব। তারপর আমরা ব্যাবসার প্রাথমিক বিনিয়োগের খেত্রগুলি সম্পর্কে জানলাম যাতে সেই ব্যাবস্থা আমরা ব্যাবসা শুরুর আগেই করে ফেলতে পারি। তা ছাড়া আমরা এই ব্যাবসার সুবিধা ও অসুবিধা সম্পর্কে জানলাম যা আমাদের দীর্ঘকালে এই ব্যাবসা চালিয়ে নিয়ে যেতে সাহায্য করবে। আর এই তথ্যগুলি জানা থাকলে আমরা সহজেই কোল্ড স্টোরেজের ব্যাবসা শুরু করতে পারবো। তাই আপনিও যদি এমন কোন উদ্যক্তা হয়ে থাকেন, যে কোল্ড স্টোরেজের ব্যাবসায়ে আগ্রহী, তবে আপনি এখনই গিয়ে প্রাথমিক প্রস্তুতি শুরু করুন। তারপরে নির্দিস্ট সময়ে আপনি এই তথ্যগুলিকে বিশ্লেসন করে সঠিক পরিকল্পনা প্রস্তুত করে যদি ব্যাবসায় নামেন, তবে আপনার সাফল্য কিছুটা নিশ্চিত বলা যেতে পারে।

Related Posts

None

হোয়াটসঅ্যাপ বিপণন


None

জিএসটি এফেক্ট কিরণ স্টোর


None

হাসান নিচ্ সাধারণ দোকানে জন্য কোড


None

মুদি দোকান


None

কিরানার দোকান


None

ফল এবং সবজি দোকান


None

বেকারি ব্যবসা


None

হস্তশিল্প ব্যবসা


None

অটোমোবাইল আনুষাঙ্গিক