written by | October 11, 2021

কার্পেট ব্যবসা

কিভাবে ভারতে গালিচার ব্যবসার শুরু করবেন?

গালিচা(কার্পেট) বুনন একটি প্রাচীন ভারতীয় ঐতিহ্য, ষোড়শ শতাব্দীর পর থেকে দেশে এই শিল্পটি সমৃদ্ধ হয়। আজ, ভারত মান এবং সংখ্যার নিরিখে হস্তনির্মিত কার্পেটে বিশ্বের বৃহত্তম উৎপাদক এবং রফতানিকারক দেশ। ভারতে তৈরি কার্পেটের প্রায় ৭৫-৮৫ শতাংশ রফতানি হয়। ভারতীয় কার্পেটগুলি তাদের দুর্দান্ত নকশা, আকর্ষণীয় রঙ এবং মানের জন্য বিশ্বব্যাপী পরিচিত। এটি কার্যকরী এবং আলংকারিক উভয়ই। এটি ঘরকে সুন্দর করে তোলার পাশাপাশি উষ্ণতাও সরবরাহ করে। সাধারণত এটি পশম, সুতি বা সিন্থেটিক সুতা দিয়ে তৈরি হয়। মূলত, এর সুন্দর নিদর্শনই একে লোভনীয় এবং সুন্দর করে তুলেছে।

গালিচা তৈরির প্রক্রিয়াটি সহজ। অল্প মূলধন বিনিয়োগের মাধ্যমে কেউ এই ব্যবসায় শুরু করতে পারে। এছাড়াও, আপনি বাড়িতে একটি ছোট গালিচা উৎপাদন ইউনিট শুরু করতে পারেন। তবে কাজ সঠিক ভাবে করার জন্য পর্যাপ্ত জায়গা থাকতে হবে। এছাড়াও, একই ইউনিট থেকে, আপনি লেপ, কম্বল ইত্যাদি উৎপাদন করতে পারেন, তাই আপনি ব্যবসাটি সহজেই প্রসারিত করতে পারবেন।

এই অনুচ্ছেদের মাধ্যমে একটি গালিচা উৎপাদনের জন্য কি কি কাঁচামাল প্রয়োজন, কোন প্রক্রিয়াতে কাজটি হয় এবং কোন যন্ত্রপাতির প্রয়োজন সেই ব্যাপারে একটি ধারণা পাওয়া যাবে।

গালিচার বাজার সম্ভাবনাঃ

আবাসিক, অনাবাসিক, এবং পরিবহন বিভাগগুলিতে সুযোগের মাধ্যমে বিশ্ব জুড়ে গালিচা ব্যবসার ভবিষ্যত বেশ ভালো। শিল্প বিশেষজ্ঞদের মতে, ২০১৮ থেকে ২০২১ পর্যন্ত এই শিল্পটি ২.৬% হারে সিএজিআর বৃদ্ধি পাবে।

এই বাজারের প্রবৃদ্ধির প্রধান কারণগুলি মূলত নির্মাণ এবং পরিবহন শিল্প এবং সংস্কার কার্যক্রম ঘিরে চলে। আজকাল, গ্রাহকরা গাঢ় আকর্ষণীয় রং পচ্ছন্দ করছেন।গালিচাগুলির অ-জ্যামিতিক নকশাগুলিও দ্রুত জনপ্রিয়তা পাচ্ছে।

এখনকার সময়, পরিবেশ বান্ধব গালিচার চাহিদাও বাড়ছে।ব্যবহারকারীর মতে, বেশ কয়েকটি বিভাগ রয়েছে যা গালিচা শিল্পে প্রভাবশালী। এইগুলো হল

  • আবাসিক
  • স্বাস্থ্যসেবা
  • শিক্ষা
  • আতিথেয়তা
  • খুচরা
  • দপ্তর
  • পরিবহন

ব্যবসায়িক পরিকল্পনাঃ

যেকোনো ব্যবসা শুরুর ক্ষেত্রে একটি ব্যবসায়িক পরিকল্পনা খুবই প্রয়োজনীয়। প্রথমত, আপনাকে বাজারে নির্দিষ্ট ধরণের কার্পেটের চাহিদা সনাক্ত করতে হবে  এবং আপনি কিধরনের পণ্য উৎপাদন করতে চান সেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে।কারণ এর উপর ভিত্তি করেই আপনি ব্যয়, যন্ত্রপাতি এবং উৎপাদন প্রক্রিয়া স্থির করতে পারেন।

এর পাশাপাশি এই ধরণের গালিচার বাজারে দাম পরীক্ষা করুন। সবদিক বিচার করে, আপনি কী ধরনের কার্পেট উৎপাদন করতে যাচ্ছেন তা সাবধানতার সাথে সিদ্ধান্ত নিন। 

গালিচা তৈরির যন্ত্রপাতি

বর্তমানে, সফ্টওয়্যার পরিচালিত গালিচা তৈরির যন্ত্রপাতি বাজারে পাওয়া যায়। এবং এই যন্ত্রপাতিগুলির সাহায্যে আপনি আপনার নকশা অনুযায়ী বিভিন্ন ধরণের আলংকারিক গালিচা তৈরি করতে পারবেন। সাধারণত, আপনি এই যন্ত্রপাতিগুলির সাহায্যে ১৭ থেকে ২০ মিটার প্রশস্ত গালিচা তৈরি করতে পারবেন।

যন্ত্রটি আটটি টোন লাইনের কম্পিউটার জ্যাকুয়ার্ড গোলাকার গালিচা যন্ত্র। আপনি এই যন্ত্রের মাধ্যমে আট রঙের গালিচা উৎপাদন করতে পারবেন, কার্পেট পৃষ্ঠের রঙ আরও বৈচিত্র্যময় করে তুলতে পারবেন,গালিচার পৃষ্ঠের উলের ঘনত্ব ঘন করতে পারবেন,গালিচা পৃষ্ঠের ওজন হ্রাস করে উৎপাদন ব্যয় হ্রাস করতে পারবেন।  

কাঁচামাল

প্রধান কাঁচামাল হ’ল উলের সুতো এবং সিনথেটিক সুতা এবং রঞ্জক এবং রাসায়নিক। এছাড়াও, আপনি সিনথেটিক ফাইবার বা পাট ব্যবহার করতে পারেন। সাধারণত, কাঁচামালগুলির প্রয়োজনীয়তা আপনি যে নির্দিষ্ট ধরণের কার্পেট উৎপাদন করতে চান তার উপর নির্ভর করে। এছাড়াও আপনাকে গালিচার প্যাকেজিং-এর জন্য প্রয়োজনীয় সামগ্রীও  সংগ্রহ করতে হবে।

গালিচা তৈরির প্রক্রিয়া

সাধারণত নিম্নলিখিত পদ্ধতিতে গালিচা উৎপাদন হয়ে থাকে

  • সুতা কেনা, বিস্তৃতকরণ, ধোয়া এবং শুকানো
  • গ্রাফ পেপারে নকশা আঁকা এবং তারপরে তা মনে রাখা
  • তাঁত স্থাপন করা
  • উপযুক্ত সুতা ব্যবহার করে গালিচা বুনন
  • ভারী দাঁতযুক্ত ধাতব চিরুনি ব্যবহার করে প্রতিটি সারিতে নীচে চাপ দেওয়া
  • পশমী সুতোর বুনন গাঁথার পরে অবশিষ্ট অংশগুলি কেটে ফেলা হয় গালিচাকে মসৃণ দেখানোর জন্য
  • গালিচা ধুয়ে শুকানো
  • গালিচা ঠিক মতো মোড়ানো এবং গুছিয়ে রাখা

মূলত, গালিচা তৈরি একটি ঐতিহ্যবাহী শিল্প। আজকাল, প্রযুক্তির বিকাশের সাথে সাথে, আপনি অর্থোপার্জনের জন্য সহজ প্রক্রিয়াতে গালিচা তৈরি এবং বিক্রয় উভয়ই করতে পারবেন।

আপনি আপনার ব্যবসার নাম কি রাখবেন?

সঠিক নাম নির্বাচন করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আপনার যদি ইতিমধ্যে কোনও নাম ঠিক করা না থাকে তবে কীভাবে কোনও ব্যবসার নামকরণ করা যেতে পারে সেই ব্যাপারে কয়েকটি অনুচ্ছেদ পড়তে পারেন

তারপরে, ব্যবসার নাম আইনিকরন করার সময় ট্রেডমার্ক এবং ওয়েব অনুসন্ধান করে নিন। এবং আপনার পছন্দ করা নামটি তাড়াতাড়ি সুরক্ষিত করার জন্য যে কোনও ওয়েব ডোমেনের মাধ্যমে নিজের ওয়েবসাইট খুলুন।  

আর্থিক পরিকল্পনাঃ

আপনার ব্যবসা শুরুর জন্য কি কি জিনিষ প্রয়োজন এবং সেগুলির জন্য কত ব্যয় হবে আগে তা এক জায়গায় লিখে নিন। আপনার বাড়িতে যদি একটা বড় ঘর ফাঁকা থাকে তাহলে ব্যবসা শুরুর যদি আপনাকে আর কোন দোকান ঘর ভাড়া বা কিনতে হবেনা। এইভাবে আর কোন কোন উপায়ে ব্যয় কমানো যায় তা দেখুন।ব্যবসার প্রচারের জন্যও যে পরিমাণ ব্যয় হবে তা আর্থিক পরিকল্পনার মধ্যে অন্তর্ভুক্ত করুন।

আইনি স্বত্তা গঠন করুনঃ

আইনি স্বত্তা গঠন করার মাধ্যমে আপনি আপনার ব্যবসাকে আর এক ধাপ এগিয়ে নিয়ে যেতে পারেন। কেউ যদি আপনার ব্যবসার বিরুদ্ধে কোন মামলা করে আইনি স্বত্তা গঠন করা থাকলে আপনি ব্যক্তিগতভাবে দায়বদ্ধ থাকবেন না।

করের নথিভুক্তকরন করুনঃ 

পরবর্তী ধাপ হল আপনার ব্যবসাকে করের জন্য নথিভুক্তকরন করা।

ব্যাংক এ কারেন্ট অ্যাকাউন্ট  খোলা এবং ক্রেডিট কার্ড এর জন্য আবেদন করাঃ

ব্যবসার সমস্ত লেনদেন করার জন্য কারেন্ট অ্যাকাউন্ট  থাকা খুবই প্রয়োজনীয়। এর ফলে আপনার ব্যাক্তিগত টাকা এবং সম্পত্তি সুরক্ষিত থাকবে। এবং কারেন্ট অ্যাকাউন্ট  থাকলে ব্যবসার হিসেবনিকেশ করতে আর খাজনা দিতে অনেক সুবিধা হবে।

ব্যবসার হিসেবরক্ষণঃ

ব্যবসার সব খরচ এবং আয়ের উৎস সঠিকভাবে লিখে রাখলে তা ব্যবসাকে বুঝতে অনেক সাহায্য করে।এবং পরবর্তীতে করের হিসেব করতেও অনেক সুবিধা হয়। ব্যবসার জন্য একটা আলাদা ক্রেডিট কার্ড থাকলে সমস্ত খরচ এক জায়গায় থাকে যার ফলে পরবর্তী তে ব্যবসার জন্য টাকা বিনিয়োগের প্রয়োজন হলে সুবিধা হয়।এবং ব্যবসার জন্য ক্রেডিট কার্ড থাকলে আপনার ব্যাক্তিগত খরচও আলাদা করা সম্ভব হয়।

প্রয়োজনীয় অনুমতি এবং লাইসেন্স প্রাপ্ত করাঃ

আপনার ব্যবসায় যাতে কোন অসুবিধার সৃষ্টি না হয় বা আপনার ব্যবসা যাতে অবৈধ হিসেবে বিচার্য না হয় সেই কারণে প্রয়োজনীয় সকল অনুমতি এবং লাইসেন্স প্রাপ্ত করুন। আপনি যদি আন্তর্জাতিক বাজারে লেনদেন করতে চান তবে অবশ্যই আপনার একটি নির্দিষ্ট রফতানি-আমদানি লাইসেন্সের প্রয়োজন।

সপ্তম ধাপঃব্যবসার  বীমাকরনঃ

আপনার ব্যবসাকে সঠিক ভাবে চালু রাখার জন্য যেভাবে অনুমতি এবং লাইসেন্স দরকার সেইভাবেই বীমার ও প্রয়োজন। ব্যবসার বীমা থাকলে অনেক ক্ষতির থেকে ব্যবসাকে রক্ষা করা সম্ভব হয়। 

 ওয়েবে উপস্থিতি স্থাপন করাঃ

ব্যবসার প্রচারের জন্য সবথেকে ভালো উপায় হল কোম্পানির নিজস্ব ওয়েবসাইট থাকা। এমন অনেক সাইট আছে যেখান থেকে আপনি খুব সহজে নিজের ব্যবসার ওয়েবসাইট খুলতে পারবেন। এছাড়া সামাজিক মাধ্যমও প্রচারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটা অংশ। 

সুসংহত এবং সংগঠিত থাকুনঃ

মাসের মধ্যে একবার বা দুইবার ,আপনার ব্যবসাটির বিশ্লেষণ করুন। সেই অনুযায়ী প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিন।আপনার মূল্যবান সময় বাঁচাতে আপনাকে সুসংহত এবং সংগঠিত থাকতে হবে ।এই অনুচ্ছেদকে আপনার ব্যবসা তৈরির পথপ্রদর্শক হিসেবে আপনার সাথে রাখতে পারেন। কিন্তু সবশেষে সঠিক চিন্তাধারা,স্পষ্ট পরিকল্পনা আর গ্রাহকদের সাথে আপনার ব্যবহার ,কাজের প্রতি আপনার ভালোবাসাই পারবে আপনার গালিচা উৎপাদনের ব্যবসাকে উন্নতির শিখরে পৌঁছে দিতে।

 

Related Posts

None

হোয়াটসঅ্যাপ বিপণন


None

জিএসটি এফেক্ট কিরণ স্টোর


None

হাসান নিচ্ সাধারণ দোকানে জন্য কোড


None

মুদি দোকান


None

কিরানার দোকান


None

ফল এবং সবজি দোকান


None

বেকারি ব্যবসা


None

হস্তশিল্প ব্যবসা


None

অটোমোবাইল আনুষাঙ্গিক