written by | October 11, 2021

কার্তুজ রিফিলিং ব্যবসা

কিভাবে কার্টিজ রিফিলিং এর ব্যাবসা শুরু করা যায়

একবিংশ শতকের শুরু থেকেই একাধিক যন্ত্র আসতে আসতে আমাদের জীবনে পাকাপাকি ভাবে যায়গা করে নিয়েছে। আর এইসব যন্ত্রপাতির অন্যতম হল প্রিন্টার। যদিও প্রথম প্রিন্টার বা মুদ্রণজন্ত্রের আবিস্কার হয়েছিল ষোড়শ শতাব্দিতে, তবে একবিংশ শতকের শুরু থেকে ইলেক্ট্রনিক প্রিন্টার প্রচুর কম দামে বিক্রি হতে শুরু করল। তাই যখনই কোন নূতন উদ্যোক্তা কোন ব্যাবসা শুরু করতে যায়, তারা চেষ্টা করে যে তাদের কাছে যেন অন্তত একটি প্রিন্টার থাকে। তাহলে যেকোনো প্রয়োজনীয় নথিকে কম্পিউটার থেকে কাগজে প্রকাশ করার জন্য তাদেরকে অন্য কথাও গিয়ে বা অন্য কারুর সাহায্য নিয়ে সেই কাজ করতে হবে না।তবে, ব্যাবসা শুরু করার সময় আপনি যদি প্রিন্টার নিয়েই ব্যাবসা করেন তাহলে কেমন হয়? 

বর্তমানে যে সমস্ত প্রকারের প্রিন্টার ব্যাবহ্রিত হয় তার মধ্যে অন্যতম হল কার্টিজ প্রিন্টার। এই প্রিন্টারে একপ্রকার পৃথক পাত্র থাকে যাতে কালি ভরা হয়। এই পাত্রগুলিকে বলা হয় কার্টিজ। এই কার্টিজ যখন কেনা হয়, তখন তাতে আগে থেকে কালি ভরা থাকে। তবে সেই নির্দিষ্ট কালি যখন শেষ হয় তখন সেই কার্টিজ পুনরায় কালি না ভরা অবধি একেবারে নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়ে। আর এইসময়ে কার্টিজ প্রিন্টার ব্যাবহারকারিদের দরকার হয়ে পড়ে এমন এক পরিসেবার যার মাধ্যমে তারা তাদের কার্টিজটিতে পুনরায় কালি ভরে নিতে পারে। বর্তমানে কার্টিজ প্রিন্টার ব্যাবহারকারীর সংখ্যা প্রচুর পরিমানে বেরে গিয়েছে। তাই এই পরিসেবার প্রয়োজন ও হয় প্রচুর। সেই কারনে বর্তমানে কোনও তরুন যুবক বা যুবতী নতুন ব্যাবসার উদ্যোগ নেন, তাদের অনেকেই এই কাজ, অর্থাৎ কার্টিজ রিফিলিং কে তার ব্যাবসার মুল কর্মসুচি হিসেবে বেছে নেন।

কার্টিজ রিফিলিং ব্যাবসার প্রাথমিক পদক্ষেপ সংক্রান্ত দু-এক কথা

একটি সমীক্ষায় দেখা গেছে এক এক বছরে বছরে প্রায় ৩৭কোটি কার্টিজ ফেলা যায় কারন তাদের কেউ আর নূতন করে রিফিলিং করে না। এইভাবে প্রচুর প্লাস্টিক ও কালি, যা অন্য কোনও গুরুত্বপূর্ণ কাজে ব্যাবহার হতে পারত তা জমির উছহতা বারান ও গর্ত বোঝানোর কাজে লেগে যাচ্ছে। এতে যে শুধু আর্থিক ক্ষতি হচ্ছে তা এ নয়, ক্ষতি হচ্ছে পরিবেশেরও। তাই আপনি যদি এই কাজকে আপনার ব্যাবসার কর্মসুচি হিসেবে বেছে নেন তবে আপনার আপনি অনেক ক্রেতাফ্র আর্থিক সঞ্ছয় করে যেমন তাদের উপকার করবেন, তেমনই আপনি রক্ষা করবেন আমাদের এই পৃথিবীকে। তাই আপনি যদি নিজের ব্যাবসা শুরু করার সময় কার্টিজ রিফিলিং কে নিজের মুল কর্মসুচি করার কথা ভেবে থাকেন, তবে এই ব্যাবসা শুরু করার আগে তার প্রাথমিক পদক্ষেপ সম্পর্কে কিছু তথ্য জেনে নিন।

১)পরিকল্পনা-

যেকোনো কাজের জন্য পরিকল্পনা সবার আগে প্রয়োজন। এবং এই ঘটনা সমস্ত প্রকার ব্যাবসার ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। তবে কার্টিজ রিফিলিং এর ব্যাবসায়ে একটু অন্য ধরনের পরিকল্পনা প্রয়োজন। আপনাকে আগে দেখতে হবে যে আপনি যে অঞ্চলে ব্যাবসা শুরু করতে চলেছে সেখানে সাধারণ মানুষের মধ্যে কার্টিজ প্রিন্টার ব্যাবহারের প্রবণতা আছে কিনা। আপনি যদি এমন একটি যায়গা খুজে বার করতে পারেন যেখানে মানুষের মধ্যে এই ধরনের প্রিন্টার ব্যাবহারের প্রবনতা বেশি, তবে আপনি সেই স্থান কে কেন্দ্র করে আপনার ব্যাবসায়িক পরিকল্পনা করুন। তা যদি আপনি করেন তবে খুব সহজেই আপনি এই ব্যাবসার সুচনা এবং তাতে সাফল্য লাভ করতে পারবেন।

২)ব্যাবসার আকার-

আপনি কথায় ব্যাবসা শুরু করছেন এবং আপনার কাছে অর্থবল কেমন আছে তার উপর অনেকটা নির্ভর করে আপনি কোন আকারের ব্যাবসা শুরু করতে পারেন। আপনি যদি এমন কোনও যায়গায় ব্যাবসা শুরু করার সুযোগ পান যেখানে কার্টিজ প্রিন্টারের ব্যাবহারকারির সংখ্যা প্রচুর এবং এর পাসাপাসি যদি আপনার অর্থবল ও প্রচুর হয় তবে আপনি সহজেই একটি বৃহদাকারের একটি ব্যাবসা গড়ে তুলতে পারবেন। তবে উপরোক্ত শরতদুতির কোনও এক্তিও যদি না মেলে, তবে একটি ছোট আকারের ব্যাবসা আপনার জন্য শ্রেষ্ঠ হবে।

৩)ফ্র্যাঞ্চাইজি-

আপনি যদি এই ধরনের ব্যাবসা শুরু করার সময়ে কোনও একটি বিখ্যাত কার্টিজ রিফিলিং এর ফ্র্যাঞ্চাইজি নেন তবে খুব সহজেই আপনি ব্যাবসায় উন্নতি করতে পারবেন। কারন এই ক্ষেত্রে আপনার ব্যাবসায় আপনার পরিস্রমের পাসাপাসি আপনার ফ্র্যাঞ্চাইজির খ্যাতিও খানিক্তা আপনাকে সহায়তা করবে। তবে এই সমস্ত ফ্র্যাঞ্চাইজি গ্রহন করার জন্য আপনাকে মাসিক বেশ খানিকটা টাকা তাদের প্রদান করতে হয়। এবং এই কাজ একটি নতুন উদ্যোক্তার জন্য কঠিন হয়ে পড়ে। তবে ব্যাবসা শুরু করার সময়েই যে ফ্র্যাঞ্চাইজি গ্রহন করতে হবে তার কোনও মানে নেই। তাই, আপনি যদি প্রাথমিকভাবে ফ্রাঞ্চাইজি নিতে অক্ষম হন, তবে আপনি আগে আপনার ব্যাবসার স্রিব্রিদ্ধি ঘতানর দিকে দ্রিস্তিপাত করতে পারেন। এরপর যথেষ্ট অর্থবল তৈরি হলে আপনি সহজেই একটি ফ্র্যাঞ্চাইজি নিতে পারবেন এবং আপনার ব্যাবসাকে উন্নতির সিখরে নিয়ে যেতে পারবেন।

কার্টিজ রিফিলিং ব্যাবসার সুবিধা

কার্টিজ রিফিলিং এর ব্যাবসা শুরু করার কিছু এমন সুবিধা রয়েছে যা অন্য কোনও ব্যাবসায় নেই। আর আপনি যদি এই ব্যাবসা শুরু করতে ইচ্ছুক হন, তবে আপনার এই সুবিধাগুলির কথা জেনে নেওা দরকার।

১)অনর্গল চাহিদা-

বর্তমান যুগে অধিকাংশ নথিমুলক কাজকর্ম হয় কম্পিউটারের মাধ্যমে। তবে এই সমস্ত নথি কম্পিউতারে প্রস্তুত হলেও তার প্রস্ফুতন কাগজে না হওা পর্যন্ত এই নথিগুলি সম্পূর্ন অর্থহীন। এবং সেই চাহিদা মেটাতে প্রিন্টারের প্রয়োজন এখন সরবক্ষন। এবং এই প্রিন্টারগুলির মধ্যে এক বিরাট অংশ হল কার্টিজ প্রিন্টার। তাই এই প্রিন্টারের চাহিদা জতদিন আছে, আপনার ব্যাবসার চাহিদা ও ততদিনই থাকবে।

২)স্বল্প স্থানে ব্যাবসার সুচনা-

এই ব্যাবসা শুরু করার জন্য আপনাকে প্রচুর পন্য সঞ্চয় ও সংরক্ষণের ব্যাবস্থা করতে হয় না। তাই আপনি যখন ব্যাবসা শুরু করতে যাবেন, খুব অল্প জায়গার মধ্যে আপনি এই কাজ শুরু করতে পারবেন।

কার্টিজ রিফিলিং ব্যাবসার অসুবিধা

কার্টিজ রিফিলিং ব্যাবসায় যেমন সুবিধা অনেক আছে যা অন্য ব্যাবসায় নেই, তেমনই এই ব্যাবসায় এমন অনেক অসুবিধা ও আছে যা অন্য ব্যাবসায় নেই। আর এই অসুবিধাগুলি সম্পর্কে যদি আপনি আগে থেকে না জেনে থাকেন, তবে আপনার ব্যাবসা শুরু করার সময়ে বিশেষ অসুবিধা হতে পারে। তাই আসুন, দেখে নেওয়া যাক কি এই অসুবিধাগুলি।

১)বিশেষ প্রশিক্ষণ-

কার্টিজ রিফিলিং একটি অত্যন্ত কঠিন কাজ। তাই সঠিক প্রশিক্ষণ না থাকলে আপনার পক্ষে এই ব্যাবসা শুরু করার কাজ একটু কঠিন হয়ে উথতে পারে। জদিও আপনি খুবই সহজে এই প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত অন্যান ব্যাক্তিদের মধ্যে কাউকে কর্মচারি হিসেবে নিয়োগ করতে পারেন। তবে সেই কাজ এক্তু নতুন ব্যাবসার জন্য বেশ খরচসাপেক্ষ হয়ে ওঠে।

২)দামি যন্ত্রপাতি-

কার্টিজ রিফিলিং এর কাজের জন্য যে সমস্ত জন্ত্রপাতি প্রয়োজন টা অধিকাংশ ক্ষেত্রেই অত্যন্ত দামি হয়ে থাকে। এই সকল যন্ত্রপাতির মুল্য এততা বেশি হওার কারনেই অনেক নূতন উদ্যোক্তা কার্টিজ রিফিলিং-এর ব্যাবসার কথা ভেবে থাক্লেও তাকে রুপ দিয়ে উঠতে পারেন না।  টা আপনার কাছে যদি প্রয়োজনীয় অর্থবল না থেকে থাকে, তবে আপনি এই ব্যাবসা শুরু করার সময় এক প্রকান্দ বাধার সম্মুখীন হবেন।

উপরে আমরা কার্টিজ রিফিলিং-এর ব্যাবসা শুরু করার বিষয়ে প্রভুত তথ্য নিয়ে আলোচনা করলাম। আমরা কার্টিজ রিফিলিং-এর মূল সুবিধা ও অসুবিধার কথা জানলাম। তার পাসাপাসি জানলাম যে এই ব্যাবসা শুরু করার জন্য আমাদের প্রাথমিক স্তরে কি কি করতে হয়। এই তথ্য গুলি তাদের জন্য খুবই গুরুত্বপুর্ন যারা নিজেরা এই ব্যাবসা শুরু করতে এবং তাতে প্রতিষ্ঠিত হতে চাইছেন। আপনি যদি এই প্রকৃতির ব্যাক্তি হন, তবে আপনি এই তথ্য গুলির উপর ভিত্তি করে নিজের ব্যাবসায়িক নীতি গথন করতে পারেন। এরপর আপনার কাজ হল সেই নীতি অনুসরন করা। তাহলেই আপনি কার্টিজ রিফিলিং এর ব্যাবসায় উন্নতির সিখরে পৌঁছবেন।

Related Posts

None

হোয়াটসঅ্যাপ বিপণন


None

জিএসটি এফেক্ট কিরণ স্টোর


None

হাসান নিচ্ সাধারণ দোকানে জন্য কোড


None

মুদি দোকান


None

কিরানার দোকান


None

ফল এবং সবজি দোকান


None

বেকারি ব্যবসা


None

হস্তশিল্প ব্যবসা


None

অটোমোবাইল আনুষাঙ্গিক