written by | October 11, 2021

কাগজ ব্যাগ তৈরির ব্যবসা

কীভাবে কাগজের ব্যাগ ব্যবসা শুরু করবেন

নিজের পায়ে দাঁড়াতে হলে আপনাকে উদ্যোগী হতে হবে। আর উদ্যোক্তা হওয়ার জন্য ঠিক করতে হবে কী দিয়ে শুরু করবেন। এজন্য দরকার অল্প পুঁজিতে শুরু করা যায় এমন ব্যবসা।

বিপণিবিতান ও ছোটখাটো দোকানপাটে সারা বছর কাগজের শপিং ব্যাগের প্রয়োজন হয়। সারা দেশের কেনাকাটায় জনপ্রিয় এ ধরনের ব্যাগ। শপিংয়ের জন্য ক্রেতারা কাগজের ব্যাগকেই বেশি পছন্দ করেন। অর্থাৎ কাগজের শপিং ব্যাগের চাহিদা সব সময়ই থাকে। তাই স্বনির্ভর কর্মসংস্থান ও কম পুঁজির উপায় হিসেবে আপনিও এ ব্যবসা শুরু করতে পারেন। বিভিন্ন উৎসব, যেমন ঈদ মৌসুমে এসব ব্যাগের চাহিদা বহুগুণ বেড়ে যায়।

বাজার সম্ভাবনা

কাগজের শপিং ব্যাগের চাহিদা সব সময় থাকে। সব জায়গায় কাগজের ব্যাগ ব্যবহƒত হচ্ছে। অনেক বড় প্রতিষ্ঠান নিজেদের প্রয়োজন অনুযায়ী কাগজের ব্যাগ অর্ডার দিয়ে তৈরি করিয়ে থাকে। এমন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ রাখুন। তাদের অর্ডার অনুযায়ী ব্যাগ তৈরি করে আয় করা সম্ভব। এছাড়া মিষ্টি ব্যবসায়ী, কাপড় বিক্রেতা, কনফেকশনারি ও অন্য ব্যবসায়ীরা তাদের প্রয়োজনমতো কাগজের ব্যাগ কিনে থাকেন। এছাড়া যে কোনো মার্কেটের সামনে এই ব্যাগ বিক্রি করতে পারেন।

সরকারী অনুমতির প্রয়োজন হয় কি না? 

আসলে যে কোন ব্যবসাতেই সরকারী অনুমতির প্রয়োজন হয়। আজকাল অনলাইন ব্যবসা শুরু করার জন্যেও তো অনুমতি লাগে। তবে তোমার ব্যবসা যদি কোন বড় ই কমার্স সাইটে কোন একটা স্টোর নিয়ে শুরু করো তবে তোমার কোন সরকারী অনুমতির প্রয়োজন নেই। অন্য দিকে যদি দোকান দাও বা নিজের ব্যবসার নামে ওয়েবসাইট খুলে সেখান থেকে ব্যবসা চালাও তবে তোমাকে সরকারের অনুমতি নিতে হবে। সেক্ষেত্রে তোমাকে ট্রেড লাইসেন্স সংগ্রহ করতো স্থানীয় সরকার বিভাগে গিয়ে অনলাইনে ব্যবসা করার জন্যেও অনুমতি নিতে হবে।   

উপকরণ

হাতুড়ি, পাঞ্চ মেশিন, গামলা, কাঁচি, ফরমা, কাঁচামাল, কাপড়, আঠা, সুতা, পিচবোর্ড বা শক্ত কাগজ, আইলেট, স্ক্রিন প্রিন্ট, সেলাই মেশিন, তারা প্রভৃতি।

কাগজের ব্যাগ   বানানোর পদ্ধতি

পঞ্চাশ কেজি ঠোঙ্গা বানাতে লাগবে তিন কেজি আটার সঙ্গে পানি মিশিয়ে আগুনে তাপ দিয়ে বানানো আঠা। দুই কেজি, দেড় কেজি, আধা কেজি ও পোয়া কেজি এই চার সাইজের ঠোঙ্গা বেশি চলে। তাই কাগজ কিনে যে ঠোঙ্গা বানাবেন তা মাপমতো কেটে নিতে হবে। আকার ঠিক রাখতে প্রয়োজনে বাজার থেকে নির্দিষ্ট মাপের একটা করে ব্যাগ বা  ঠোঙ্গা সংগ্রহে রাখতে পারেন। ব্যাগ এর তলায় দেওয়ার জন্য সাইজমতো চারকোনা কাগজ কেটে নিতে হবে। একপাশে ব্যগের ও তলার কাগজ অন্যপাশে আঠা নিয়ে বসে যেতে হবে। সাইজ করা কাগজগুলো গোল করে দুই মাথা আঠা দিয়ে লাগিয়ে দিতে হবে। অনেকটা পাইপের মতো দেখাবে। চাপ দিয়ে ভাঁজ করে ওজনদার কিছু দিয়ে চেপে রাখতে হবে। চেপে রাখা কাগজের ভাঁজ পড়া দুই পাশ আঙুলে চাপ দিয়ে পাইপের ভেতর ঢুকিয়ে দিতে হবে। এখন আড়াআড়ি দুই পাশ ভেতরের দিকে আর দুই পাশ বাইরের দিকে থাকবে। চারকোনা করে কেটে রাখা একটা কাগজ ভেতরের ভাঁজের ওপরে রেখে বাইরের দিকে থাকা কাগজ দুটি দিয়ে আঠা দিয়ে লাগিয়ে দিতে হবে। হয়ে গেল কাগজের ব্যাগ । এক শ করে ব্যাগ বেঁধে ফেললেই বিক্রি উপযোগী হয়ে যাবে।

 সুবিধা

এ ব্যবসায় তুলনামূলক কম পুঁজি। তাই কম রুপি বিনিয়োগ করে শুরু করা যায়। ইচ্ছে করলে পরিবারের সবাই মিলে ব্যবসাটি চালানো যায় তাই এতে করে কর্মীর দরকার হয় না। এ ব্যবসায় লাভ তুলনামূলক আনেক বেশি এবং সুবিধামতো স্থানে থেকে বিক্রি করা যায়। এছাড়াও নিজেই কোন দোকান নিয়ে বিক্রি করতে পারেন। নিজে দোকান না নিলেও চলে কারণ পাইকার বা খুচরা দোকানদারদের কাছে বিক্রি করা যায়। তাই শহর কিংবা গ্রাম সব জায়গায় এ ব্যবসা করা যায়। 

প্রচার-প্রচারণা কি করে হবে? 

যে কোন ব্যবসার শুরুতে প্রচারপ্রচারণা টাই আসল। তুমি যদি কাগজের ব্যাগ ব্যবসা শুরু করতে চাও তবে তোমার প্রচার প্রচারণা একদম অনালিন নির্ভর হওয়া দরকার। অন্যদিকে কোন দোকান দিয়ে শুরু করলে তুমি নিজস্ব মানুষদের কে বলে তাদের অর্ডার তোমার কাছে করাতে পারো। ব্যবসার নামে মাইকিং ব্যানার ও করা যেতে পারে। সেই সাথে অনালাইন ও সামাজিক যোগাযগ মাধ্যমেও প্রচার প্রচারণা চালানো যেতে পারে। 

কিভাবে ও কোথায় বিক্রি করবেন? 

আপনি সাধারণত কোন বাজার বা সুপার শপে অথবা স্কুল কলেজ পার মাদ্রাসার পাশে জনাকীর্ণ এলাকায় পণ্য বিক্রি করতে পারেন।  তবে আপনি যদি পাইকারি বিক্রয় করতে চান তাহলে স্টেশনারি দোকানে সরবরাহ করতে পারেন এবং আশেপাশে যারা খাতা কলম বিক্রি করে তাদের কাছে বিক্রয় করতে পারেন। তাছাড়া শহরের রাস্তায় বিক্রি করতে চাই নিজে অথবা অন্য কারো মাধ্যমে বিক্রি করা যেতে পারে আপনার পণ্য নামের জন্য আপনি পন্যগুলো অন্যদের চেয়ে একটু কম দামে দিতে পারেন। এতে করে আপনার গ্রাহক বাড়বে আর গ্রাহক বাড়লে লাভও বাড়বে। 

যে সকল বিষয় খেয়াল রাখতে হবে

বানানোর সময় ভাঁজটা ঠিকমতো দিতে হবে অন্যথায় এলোমেলো হলে ব্যাগটি সুন্দর হবে না। ব্যাগে যেসব অংশে আঠা লাগানো হয়, তা ভালো করে শুকিয়ে নিতে হবে। ভালোমতো না শুকালে জোড়া দেওয়া জায়গার কাগজ খুলে যেতে পারে। ব্যাগের নিচে ও ওপরে শক্ত কাগজ লাগাতে হবে। নতুবা ছিঁড়ে যেতে পারে। 

 পুঁজি

পুঁজির বিষয়টা আসলে নির্ভর করে তুমি কত বড় করে ব্যবসা শুরু করতে যাচ্ছ তার উপরে।  যে কোন ব্যবসায় পুঁজি যত ইচ্ছে ততো বিনিয়োগ করা যায়। তুমি যদি সনাতন পদ্ধতিত্র প্রিন্টিং ব্যবসা চালু করতে চাও তবে ৫ হাজার রুপি পুঁজি বিনিয়োগ করলেই চলবে। অন্যদিকে যেকোন ধরনের একটা প্রিন্টিং মেশিন নিয়ে কাজ করতে চাইলে ১৫ থেকে ৫০ হাজার রুপি তোমাকে মেশিনের কোয়ালিটি ভেদে বিনিয়োগ করতে হতে পারে। 

এছাড়াও, তুমি নিজের ওয়েবসাইটে ব্যবসা শুরু করতে চাইলে সেটার খরচা, দোকান বা কারখানা দিলে তার মাসিক ভাড়া যদি নিজস্ব না হয়ে থাকে এবং তোমার কর্মী রাখতে হলে তার বেতন লাগবে। অন্যদিকে তুমি মিডল ম্যান হয়ে এসব ঝামেলা না করে শুধু মাত্র একটা ওয়েবসাইট করে এই ব্যবসা চালিয়ে যেতে পারবে। সেক্ষত্রে তোমার কোন পুঁজি বিনিয়োগের প্রয়োজন পরবে না। যাইহোক, পাঁচ থেকে ১০ হাজার রুপি নিয়ে এ ব্যবসা শুরু করা যায়। তবে কাগজ কাটার মেশিন কিনলে খরচ বেশি পড়বে।

লাভ

কাঁচামালের দাম বিভিন্ন সময় কম-বেশি হয়। গ্রাহকের চাহিদা অনুযায়ী শপিং ব্যাগ তৈরি করতে হবে। এক্ষেত্রে যোগাযোগ খুব গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। যোগাযোগ ভালো হলে এ ব্যবসায় দ্রুত উন্নতি করা যাবে।

সঠিকভাবে করতে পারলে এই ব্যবসা ক্ষতির সম্ভাবনা প্রায় নেই বললেই চলে৷ বাজারের চাহিদা অনুযায়ী করতে পারলে, বা কোনও প্রতিষ্ঠান বা বড় দোকানের সঙ্গে চুক্তি করতে পারলে আপনার মাসিক উপার্জন  নিশ্চিত হতে পারে৷ আপনি কত খাম তৈরি করে বিক্রি করতে পারছেন তার ওপর এই অঙ্ক অনেকটাই নির্ভর করছে৷। 

প্রশিক্ষণ

বিশেষ যোগ্যতার প্রয়োজন নেই। কাগজের ব্যাগ তৈরি করা শেখার কোনো প্রশিক্ষণ কেন্দ্র নেই। তবে অভিজ্ঞ কোনো ব্যক্তির কাছ থেকে ব্যাগ তৈরির নিয়ম হাতে-কলমে শিখে নিতে পারেন। বিভিন্ন ধরনের ব্যাগ বিভিন্ন পদ্ধতিতে তৈরি করা হয়। ধৈর্যশীল হলে এ ব্যবসায় টিকে থাকতে পারবেন।

আপনি চাইলে পার্ট-টাইমে এই ব্যবসা করতে পারেন অথবা ফুল-টাইমও করতে পারেন৷ গ্রিটিংস কার্ডের জন্য খাম, বা ক্যুরিয়রের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যাগ বা  খাম, অথবা অফিস বা অনুষ্ঠানের জন্য, প্রত্যেকটি ক্ষেত্রেই বিভিন্ন ধরণের, বিভিন্ন কাগজে তৈরি করা হয় ব্যাগ  বা খাম৷ তাই সেই অনুযায়ী কাগজ কিনতে হবে৷ চাইলে ডিজাইনার খামও তৈরি করতে পারেন৷ এভাবে বাড়িতে বসেই কম পুঁজিতে আপনি আপনার নিজস্ব ব্যবসা শুরু করে দিতে পারবেন৷

 

Related Posts

None

হোয়াটসঅ্যাপ বিপণন


None

জিএসটি এফেক্ট কিরণ স্টোর


None

হাসান নিচ্ সাধারণ দোকানে জন্য কোড


None

মুদি দোকান


None

কিরানার দোকান


None

ফল এবং সবজি দোকান


None

বেকারি ব্যবসা


None

হস্তশিল্প ব্যবসা


None

অটোমোবাইল আনুষাঙ্গিক