written by | October 11, 2021

ওয়ালপেপার ব্যবসা

কীভাবে আপনি ওয়ালপেপারের ব্যবসা শুরু করবেন?

ওয়ালপেপার ব্যবসা গৃহসজ্জার সাথে জড়িত অপেক্ষাকৃত কম পরিশ্রমের কাজ। নিজের বাড়িকে নতুন রূপে সাজিয়ে তোলার জন্য এখন অধিকাংশ মানুষই ওয়ালপেপার ব্যবহার করতে পছন্দ করেন। কারণ বাড়ি নতুন করে রং করা শুধু ব্যয় সাধ্যই নয় সঙ্গে সময়সাপেক্ষও।

এই কারণে ওয়ালপেপারের ব্যবসা শুরু করা খুবই ভালো ভাবনা।

আপনার প্রতিভা ব্যবহার করুনঃ

ওয়ালপেপারের ব্যবসা শুরু করার জন্য আপনাকে পেশাদার অভ্যন্তর প্রসাধক হওয়ার কোন দরকার নেই। কারণ কাজটি করার জন্য আপনি অন্য যে কোন অভ্যন্তর প্রসাধককে ভাড়া করতে পারবেন। আপনাকে শুধুমাত্র এটাই নিশ্চিত করতে হবে যে ব্যবসায় সাফল্য আনার জন্য আপনি যাতে সম্ভাব্য গ্রাহকদের আকৃষ্ট করতে পারবেন। এছাড়াও আপনার ব্যবসার পরিকল্পনা, প্রচার পরিকল্পনা,ওয়ালপেপার লাগানোর দল,সাজসজ্জার কর্মী, যানবাহন, ওয়ালপেপারিংয়ের সরঞ্জাম প্রয়োজন। এই ব্যবসা বাড়িতে থাকা বাব-মা র জন্য বাড়ির থেকে করতে পারা ভালো একটা ব্যবসা হতে পারে। এই ধরণের ব্যবসা পারিবারিক আয়ের একটা ভালো উৎস হতে পারে যেখানে সময়ের কোন বাধনও থাকবেনা। 

আর্থিক পরিকল্পনাঃ

ওয়ালপেপার ব্যবসায়ের জন্য প্রারম্ভকালীন মূলধনটি অনেকটাই কম। আপনার কাছে যদি কমপক্ষে ১০০০০ টাকা থাকে তাহলেই আপনি ব্যবসা শুরু করতে পারবেন। আপনার কম্পিউটার দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে আপনি আরও কমে আপনার ব্যবসায় শুরু করতে পারেন। সাধারণ কাগজে হলেও রঙিন প্রচারপত্র তৈরি করা খুবই প্রয়োজনীয়। পাশাপাশি, আপনার ব্যবসায়ের কার্ডও তৈরি করা দরকার যা আপনি সম্ভাব্য গ্রাহকদের দিতে পারবেন। আপনার ওয়ালপেপার ব্যবসা শুরু করার জন্য আপনার যে সরঞ্জামগুলির প্রয়োজন হবে তা হল  ব্রাশ, নীল রঙের পেইন্টারের টেপ, ওয়ালপেপারের পেস্ট, ওয়াল সাইজিং, জল রাখার পাত্র, বেলন এবং ইত্যাদি।

নিজের প্রতিযোগীদের চিনুনঃ

পরবর্তী ধাপ হল নিজের প্রতিযোগীদের চেনা। আপনার প্রতিযোগীরা গ্রাহকদের থেকে কত পারিশ্রমিক ধার্য করছে বা কি মানের জিনিষ ব্যবহার করছে সেই ব্যপারে তথ্য সংগ্রহ করুন। এইসব তথ্যকে কাজে লাগিয়ে তাদের থেকে নিজেকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করুন।

আপনি আপনার ব্যবসায়ের নাম কি রাখবেন?

সঠিক নাম নির্বাচন করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আপনার যদি ইতিমধ্যে কোনও নাম ঠিক করা না থাকে তবে কীভাবে কোনও ব্যবসার নামকরণ করা যেতে পারে সেই ব্যাপারে কয়েকটি অনুচ্ছেদ পড়তে পারেন

তারপরে, ব্যবসার নাম আইনিকরন করার সময় ট্রেডমার্ক এবং ওয়েব অনুসন্ধান করে নিন। এবং আপনার পছন্দ করা নামটি তাড়াতাড়ি সুরক্ষিত করার জন্য যে কোনও ওয়েব ডোমেনের মাধ্যমে নিজের ওয়েবসাইট খুলুন।  

আইনি স্বত্তা গঠন করুনঃ

আইনি স্বত্তা গঠন করার মাধ্যমে আপনি আপনার ব্যবসাকে আর এক ধাপ এগিয়ে নিয়ে যেতে পারেন। কেউ যদি আপনার ব্যবসার বিরুদ্ধে কোন মামলা করে আইনি স্বত্তা গঠন করা থাকলে আপনি ব্যক্তিগতভাবে দায়বদ্ধ থাকবেন না।

করের নথিভুক্তকরন করুনঃ 

পরবর্তী ধাপ হল আপনার ব্যবসাকে করের জন্য নথিভুক্তকরন করা।

ব্যাংক এ কারেন্ট অ্যাকাউন্ট  খোলা এবং ক্রেডিট কার্ড এর জন্য আবেদন করাঃ

ব্যবসার সমস্ত লেনদেন করার জন্য কারেন্ট অ্যাকাউন্ট  থাকা খুবই প্রয়োজনীয়। এর ফলে আপনার ব্যাক্তিগত টাকা এবং সম্পত্তি সুরক্ষিত থাকবে। এবং কারেন্ট অ্যাকাউন্ট  থাকলে ব্যবসার হিসেবনিকেশ করতে আর খাজনা দিতে অনেক সুবিধা হবে।

ব্যবসার হিসেবরক্ষণঃ

ব্যবসার সব খরচ এবং আয়ের উৎস সঠিকভাবে লিখে রাখলে তা ব্যবসাকে বুঝতে অনেক সাহায্য করে।এবং পরবর্তীতে করের হিসেব করতেও অনেক সুবিধা হয়। ব্যবসার জন্য একটা আলাদা ক্রেডিট কার্ড থাকলে সমস্ত খরচ এক জায়গায় থাকে যার ফলে পরবর্তী তে ব্যবসার জন্য টাকা বিনিয়োগের প্রয়োজন হলে সুবিধা হয়।এবং ব্যবসার জন্য ক্রেডিট কার্ড থাকলে আপনার ব্যাক্তিগত খরচও আলাদা করা সম্ভব হয়।

প্রয়োজনীয় অনুমতি এবং লাইসেন্স প্রাপ্ত করাঃ

আপনার ব্যবসায় যাতে কোন অসুবিধার সৃষ্টি না হয় বা আপনার ব্যবসা যাতে অবৈধ হিসেবে বিচার্য না হয় সেই কারণে প্রয়োজনীয় সকল অনুমতি এবং লাইসেন্স প্রাপ্ত করুন।

সপ্তম ধাপঃব্যবসার  বীমাকরনঃ

আপনার ব্যবসাকে সঠিক ভাবে চালু রাখার জন্য যেভাবে অনুমতি এবং লাইসেন্স দরকার সেইভাবেই বীমার ও প্রয়োজন। ব্যবসার বীমা থাকলে অনেক ক্ষতির থেকে ব্যবসাকে রক্ষা করা সম্ভব হয়। 

 নিজের ব্র্যান্ডকে সঠিকভাবে বর্ণনা করাঃ

আপনার ব্যবসা কেমন এবং আপনার ব্যবসাকে সবাই কীভাবে গ্রহন করছে তাই আপনার ব্র্যান্ডকে নির্ধারণ করবে এবং প্রতিযোগীদের থেকে আপনাকে এগিয়ে রাখবে।

ব্যবসার প্রচার করুনঃ

যদি আপনার কোনও বন্ধু জমিজমার দালাল হয় তবে আপনি  তার কাছে আপনার ব্যবসার কথা বলতে পারেন। একইভাবে, বিল্ডিং ঠিকাদাররা তাদের গ্রাহকদের আপনার ব্যবসায়ের প্রস্তাব দেওয়ার ক্ষেত্রেও সহায়তা করতে পারে। এছাড়াও আপনি যখন কাজে যাবেন সেই গাড়িতে আপনার ব্যবসার নাম বড় করে লিখুন যাতে বাইরে থেকে সবাই বুঝতে পারবে আপনার কিসের ব্যবসা । আর কোন সম্ভাব্য গ্রাহক আপনার গাড়ি দেখে আপনি যাদের বাড়িতে কাজ করছেন তাদের বাড়িতে এসে আপনার কাজ দেখে যেতে পারবে বা আপনার ব্যবসার ব্যপারে তাকে জিজ্ঞাসা করতে পারবে।

ওয়েবে উপস্থিতি স্থাপন করাঃ

ব্যবসার প্রচারের জন্য সবথেকে ভালো উপায় হল কোম্পানির নিজস্ব ওয়েবসাইট থাকা। এমন অনেক সাইট আছে যেখান থেকে আপনি খুব সহজে নিজের ব্যবসার ওয়েবসাইট খুলতে পারবেন। এছাড়া সামাজিক মাধ্যমও প্রচারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটা অংশ। আপনি আপনার ব্যবসার একটা ফেসবুক পেজ খুলে  সন্তুষ্ট ক্রেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতে পারবেন। সেই পেজ-এ তাদের আপনার দোকান সম্পর্কে ইতিবাচক পর্যালোচনা করতে বলুন যার মাধ্যমে আপনি নতুন গ্রাহকদের আকৃষ্ট করতে পারবেন। অবশ্যই খেয়াল রাখবেন যখন কেউ আপনার ব্যবসার নাম দিয়ে বা “ওয়ালপেপার + আপনার এলাকার নাম” দিয়ে গুগল করছে তখন আপনার ব্যবসার  নাম সার্চ ইঞ্জিন-এ দেখাচ্ছে কিনা।

সুসংহত এবং সংগঠিত থাকুনঃ

মাসের মধ্যে একবার বা দুইবার ,আপনার ব্যবসাটির বিশ্লেষণ করুন। আপনার গ্রাহকদের তালিকা , সফ্টওয়্যার সরঞ্জামগুলি এবং অন্যান্য ব্যবসায়িক দিকগুলি অনুশীলন করুন, কি কি কাজ হচ্ছে এবং কি কি হচ্ছে না তা বিশ্লেষণ করুন। সেই অনুযায়ী প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিন।

আপনার মূল্যবান সময় বাঁচাতে আপনাকে সুসংহত এবং সংগঠিত থাকতে হবে ।

আপনার ব্যবসা বৃদ্ধি করুনঃ

শুধুমাত্র ব্যবসা শুরু করা এবং পরিচালনা করাই যথেষ্ট নয়,আপনার ব্যবসাটি যতটা সম্ভব বৃদ্ধি করাও গুরুত্বপূর্ণ। স্পষ্টতই, আপনি একা ব্যবসা বাড়াতে পারবেন না এজন্য আপনাকে এমন কর্মী নিয়োগ করতে হবে যারা আরও বেশি কাজ করতে পারবে যার ফলে আপনি আরও বেশি আয় করতে পারবেন। আপনি যদি ওয়ালপেপার পেইন্টিংয়ের কিছু বিশেষ অংশ যেমন মুরাল এবং ট্রাম্পে ল’ইয়েল পারদর্শী হয়ে উঠতে পারেন আপনি আরও বেশী রোজগার করতে সক্ষম হবেন। আপনি কেবল পেইন্টিংয়ের কাজ না করে অন্দরসজ্জার দিকেও নিজের ব্যবসাকে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারেন। সুতরাং, আপনি যদি অল্প আয় করতে বা সম্পূর্ণ আয় অর্জনের জন্য কোনও ব্যবসা শুরু করতে চান তাহলে ওয়ালপেপার ব্যবসা আপনার জন্য উপযুক্ত। আপনি এই ব্যবসাটি নিজের বাড়ির থেকেও করতে পারবেন আবার চাইলে দোকান কিনে বা ভাড়া করেও করতে পারবেন। এই অনুচ্ছেদকে আপনার ব্যবসা তৈরির পথপ্রদর্শক হিসেবে আপনার সাথে রাখতে পারেন। কিন্তু সবশেষে সঠিক চিন্তাধারা,স্পষ্ট পরিকল্পনা আর গ্রাহকদের সাথে আপনার ব্যবহার ,কাজের প্রতি আপনার ভালোবাসাই পারবে আপনার ওয়ালপেপারের ব্যবসাকে উন্নতির শিখরে পৌঁছে দিতে।

Related Posts

None

হোয়াটসঅ্যাপ বিপণন


None

জিএসটি এফেক্ট কিরণ স্টোর


None

হাসান নিচ্ সাধারণ দোকানে জন্য কোড


None

মুদি দোকান


None

কিরানার দোকান


None

ফল এবং সবজি দোকান


None

বেকারি ব্যবসা


None

হস্তশিল্প ব্যবসা


None

অটোমোবাইল আনুষাঙ্গিক