written by | October 11, 2021

উপহার দোকান ব্যবসা

ভারতে সফলতার সাথে কীভাবে উপহারের দোকান ব্যবসা শুরু করবেন

উপহার কথাটি শুনলেই যে কোনো বয়সের মানুষের মনে একটু ভালোলাগা, উৎসাহ আর অনেকটা উত্তেজনা আসে। কোনো কারণ হোক বা অকারণ, গিফট পেয়ে খুশি হয় না এমন মানুষ কম আছে।  আর এখনকার দিনে কোনো ছোট উৎসব হোক বা বড়ো , নিমন্ত্রিত ব্যাক্তিরা কিছু হাতে করেই সেই বিশেষ মানুষটার দিনটিতে আনন্দ করেন, উৎযাপন করেন।জন্মদিন হোক বা বিবাহবার্ষিকী, উপহার যেন প্রতিটি সমারোহের  একটি বিশেষ অংশ।  তাই কোনো কোনো সময় কোনো স্পেশাল মানুষকে খুশি করার জন্যে উপহারের দোকানে আমাদের ঢুকতেই হয়। আর সেই দোকানের চমকপ্রদ উপহার দেখে অনেকসময় আমরা নিজেদের জন্যেও কিছু কিনে ফেলি। আর উপহারের দোকান এমনই একটা ব্যবসা যেটা অল্প বা মাঝারি পুঁজি থেকে শুরু করা যায়। কোনো অল্পবয়সী মহিলা থেকে বৃদ্ধা যে কেউ  উপহারের ব্যবসা শুরু করতে পারে।  সাধারণভাবে একটা গিফট শপ করার জন্যে যে বিষয়গুলো তোমাকে ভাবতে হবে তারই একটা সংক্ষিপ্ত আলোচনা এখানে আমরা করবো। 

  • দোকানের কলেকশনের দিকে বিশেষ ভাবে নজর দিতে হবে। অন্নপ্রাশনে একজন যেমন বাচ্ছাদের জিনিস কিনবে তেমন বিবাহের উপহার হিসাবে একজন কাস্টমার বিভিন্ন রকমের জিনিস নিতে পারে, তাই বয়স অনুযায়ী, বিভিন্ন রকম দামের উপহারের স্টক এবং তার সাথে পুরুষ–মহিলার জন্যে আলাদা বা ইউনিসেক্স   জিনিসের কালেকশন ও রাখতে হবে, তোমার দোকানকে এমনভাবে সুসজ্জিত করে তুলতে হবে যাতে কোনো মানুষ দোকানে এসেই তার আকাঙ্খিত কোনো জিনিস টুক করে পছন্দ করতে পারে। যেমন তবে কাস্টমারদের ক্ষেত্রে উপহার পছন্দ করার সময় দ্বিমত বা দোনামোনা করা অনেকসময় ঘটে থাকে।
  • যথার্থ উপহারের ভান্ডারের সাথে প্রতিটি জিনিসের ন্যায্য দাম রাখতে হবে।  কারণ স্বাভাবিক ভাবেই কিছু মানুষ উপহার দেয়ার সময় যাতে একটু কম খরচে উপহার দিয়ে দেয়া যায় সেই আশা করেন।আর যদি কোনো বিক্রেতা ন্যায্য দামের জন্যে সবার কাছে বিশ্বস্ত হতে পারে তার দোকান খুব তাড়াতাড়ি সফলতার শিখরে পৌঁছায়। খুব কাছের মানুষের কিছু অনুষ্ঠান হলে মানুষ তখন বেশি দামের দিকে উপহার পছন্দ করেন, আবার প্রয়োজন ও গুরুত্বের সাথে সেই উপহারের দামের তারতম্য ঘটে। তাই একটা সঠিক উপহারের দোকানের জন্যে সব রকম দামের, ছোট থেকে বড়ো আকারের উপহারের কালেকশন রাখা বাধ্যতামূলক।
  • নিজের ব্যবসা সবসময়ই ভীষণ ভালোবাসার, স্বপ্নের এবং সেখানে লুকিয়ে থাকে কঠোর পরিশ্রম। তাই প্রথমেই তোমার দোকানের জন্যে একটা যথার্থ নাম ঠিক করো। অনেকসময় খুব তাড়াহুড়ো করে কোনো জিনিস কিনে নিয়ে গেলো, সে দোকানে দেখলো ঠিক দামে বেশ ভালো কালেকশান আছে, সে তার চেনা পরিচিত কাউকে বললো ওই দোকানে চলে যাও , এভাবে তোমার কিছুটা বিজ্ঞাপনও হয়ে যাবে।  শেষ মুহুর্তের উপহার অনেক সময় সঠিক দোকানটিকে মাথায় রাখে। 
  • এরপর তোমার দোকানের পসিশন নিয়ে ভাবতে হবে, সাধারণত লোকালয়ের মধ্যে উপহারের দোকানগুলি গড়ে উঠলে সেখানে বিক্রি বেশি হয়, কোনো রেলস্টেশনের পাশে, কোনো পাবলিক স্পটের কাছে, কোনো জমজমাট বাসস্টপেজের কাছে তুমি দোকান করার কথা ভাবতে পারো, তাতে তোমার বিজ্ঞাপন দেয়ারও খরচ কমবে আবার ক্রেতার সংখ্যাও বাড়বে।
  • সাধারণ ভাবে উপহারের দোকানগুলিতে একটি আইটেম রেঞ্জ থাকে । এই উপহার দোকানগুলির জন্য ক্রেতাদের পৃথকভাবে দেখার জন্য, আকর্ষিত করার জন্যে বেশ কয়েকটি উল্লেখযোগ্য ধারণা রয়েছে। তুমি সেই ধারণা গুলিকে ফলো করে তোমার দোকানের কালেকশন সমৃদ্ধ করতে পারো। তবে তোমার নিজস্ব ধারণাও তোমাকে কে স্বমহিমায় গড়ে তুলতে সহায়তা করবে। যেমন– 
  • আর্টস ও কারুশিল্প 
  • কার্ড এবং গিফট 
  • ধর্মীয় উপহার
  • আর্টিফিশিয়াল ফুলের টব
  • কাপ–প্লেটের সেট 
  • ছোট বড়ো ডিনার সেট 
  • পানীয় খাওয়ার গ্লাস 
  • ছোট ইলেকট্রনিক্স প্রোডাক্ট 
  • পেন্সিল ও টিফিন বাক্স 
  • জলের বোতল
  • ফুলের তোড়া এবং ফুলদানি 
  • হলিডে স্পেশাল হালকা উপহার 
  • সফ্ট টয়স এবং বিভিন্ন আকারের পুতুল 
  • বাচ্ছাদের খেলনা 
  • বুটিকের ছোট আইটেম 
  • বাচ্চাদের পড়াশোনার টেবিল, 
  • ছোটদের ক্যারম বোর্ড ও বিভিন্ন খেলার উপকরণ, 
  • মেয়েদের জুয়েলারি বাক্স,
  • ব্যক্তিগতভাবে পছন্দের স্পেশাল শো–পিস  
  • বিবাহের জন্য আর্ট এবং ক্রাফ্ট উপহার
  • স্মারক  ইত্যাদি
  • পরের ধাপে তোমাকে দোকানের একটা সফল রূপ দেখার জন্যে কিছু পেপার রেডি করতে হবে তার জন্যে যেগুলি লাগবে সেগুলি হলো– 

তুমি কখনোই চাইবে না কর্তৃপক্ষের সাথে কোনো ঝামেলা হোক। তাই এই আইনী নথিগুলি অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। প্রতিটি দেশের উপর নির্ভর করে নথির তালিকা আলাদা হয়। সুনির্দিষ্ট তথ্য পেতে তোমাকে তোমার অঞ্চল বা কর্তৃপক্ষ অফিসের কাউন্সিলের কাছে যেতে হবে, তাকে প্রয়োজনীয় তথ্য দেখাতে হবে। এই ব্যবসায়ের জন্য প্রয়োজনীয় আইনী দস্তাবেজের একটি সাধারণ তালিকা হলো– 

  • ব্যবসায়িক লাইসেন্স এবং অনুমতি পত্র 
  • সংস্থার প্রশংসাপত্র
  • ব্যবসায়িক পরিকল্পনা
  • বিক্রয় করের অনুমতি
  • এলএলসিগুলির জন্য অপারেটিং চুক্তি
  • বীমা চুক্তি 
  • কর শনাক্তকরণ নম্বর (টিআইএন)
  • চুক্তি নথি
  • বীমা পলিসি 
  • এমপ্লয়ার সনাক্তকরণ নম্বর (EIN)
  • এরপর তোমাকে একটা বাজেট সেট করতে হবে– 

মনোমুগ্ধকর উপহারের একটি দোকান ব্যবসা শুরু করার জন্য আপনাকে একটা মাঝারি পরিমাণ অর্থ ব্যয় করতে হবে।যেহুতু অনেকরকম জিনিস, একটা জায়গা তৈরী করার খরচ, পেপারস প্রস্তুত করার খরচ সবটা মিলে বেশ মোটা অংকের একটা বাজেট হতে পারে। তুমি যদি অনলাইনের পাশাপাশি অফলাইন প্ল্যাটফর্ম উভয় ক্ষেত্রেই তোমার পণ্যগুলি বিক্রির বিষয়ে ভাবো তবে কেবল অফলাইনে ব্যবসায়ের জন্য প্রয়োজনীয় বাজেটের তুলনায় তোমার কিছুটা বেশি প্রারম্ভিক বাজেটের প্রয়োজন হবে। তবে যেহেতু অনলাইন প্লাটফর্ম মানুষকে জিনিস দেখতে ও কিনতে ইন্টারেস্ট দেখায়, তুমি যদি উভয় প্ল্যাটফর্মে তোমার প্রোডাক্ট গুলি বিক্রি করতে পারো তবে উপার্জনের রাস্তাটা আরও চওড়া হবে।  

তোমার যদি এই মূলধন জোগাড়ের পথে কোনো সমস্যা হয়, তুমি কয়েকটি বিকল্প পথ ভাবতে পারো, তবে কখনই  এটা ভেবো না তুমি পারবে না। দরকার হলে কোনো বন্ধুর সাহায্য নাও যে তোমাকে সাহায্য করতে পারে, পরিবারের সদস্যদের  থেকেও সাহায্য প্রার্থনা করতে পারো। বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে লোনের জন্য আবেদন করা একটি বুধ্ধিমানের এবং বিবেচনা মূলক কাজ হতে পারে।  

সব ক্ষেত্রেই দোকানের দেখনদারির ওপর ক্রয়বিক্রয় নির্ভর করে।  তাই যখন তুমি নতুন দোকান খুলছো দোকানের গেট আপের দিকে নজর দিতে হবে, তুমি এক ডিসাইন করতে না পারলে কোনো ইন্টেরিওর ডিজাইনার তোমাকে সাহায্য করে দেবে।  এক্ষত্রে তোমার যে যে বিষয়গুলির দিকে নজর দিতে হবে সেগুলি হলো– 

পর্যাপ্ত লাইটের ব্যবহার , সব জিনিস যেন রাতের আলোতেও সুন্দর ও উজ্জ্বল ভাবে দেখা যায় , দ্বিতীয়ত দোকানের নেম বোর্ডটি যেন কালারফুল হয়, দূর থেকেও যেন দোকানটিকে পরিষ্কার দেখা যায়।  দোকানের সামনের দেয়ালটা যেন কাঁচ দিয়ে তৈরি করা হয়  যাতে গ্রাহকরা দূর থেকে ভিতরে কি কি আছে সেটা দেখতে পারে।তোমার দোকান যেন সহজেই সকলের দৃশ্যমান হয়। এর জন্যে যদি তুমি মলের অভ্যন্তরে থাকা কোনও দোকান বেছে নাও তবে দোকানের প্রবেশদ্বারটি যেন মূল প্রবেশদ্বার থেকে দৃশ্যমান হয়। 

বিপণন, বাজারকরণ করা একটি ব্যবসায়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক কারণ এটি ব্যবসায়ের সাহায্যে একটি রাজস্ব উৎপন্ন করে যা দোকানের আয় বৃদ্ধিরও প্রধান উপায়। এর ফলে তোমার প্রতিযোগীদের মধ্যে ব্যবসায়ের সচেতনতা তৈরি হবে।এই উপহারের দোকান ব্যবসায়ের জন্য কিছু বিপণন কৌশল এবং ধারণা হলো দ্রুত বিক্রয় পেতে কলেজ শিক্ষার্থীদের কাছে যাওয়া, কর্পোরেট উপহার দেওয়ার জন্য সংস্থাগুলির সাথে যোগাযোগ করা , এবং উপহার আইটেম প্রচার করতে এবং তোমার কাছে যাতে নতুন ক্লায়েন্টদের উল্লেখ যোগ্য হারে ভিড় থাকে তার জন্যে অফার দেওয়া। অনলাইন বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে ব্যবসার বিজ্ঞাপন দিয়ে, তোমার পণ্যগুলি জনপ্রিয় করে তোলার জন্য শীর্ষস্থানীয় ই–কমার্স সাইটগুলিতে সেই পণ্য পোস্ট করে এবং একটি এসএমএস প্রচার ব্যবহার করতে পারো।

Related Posts

None

হোয়াটসঅ্যাপ বিপণন


None

জিএসটি এফেক্ট কিরণ স্টোর


None

হাসান নিচ্ সাধারণ দোকানে জন্য কোড


None

মুদি দোকান


None

কিরানার দোকান


None

ফল এবং সবজি দোকান


None

বেকারি ব্যবসা


None

হস্তশিল্প ব্যবসা


None

অটোমোবাইল আনুষাঙ্গিক