written by | October 11, 2021

অনলাইন হোম সজ্জা

কিভাবে অনলাইনে ঘর সাজানর সামগ্রী বিক্রয় করা যায়

অনেকেই মনে করেন যে মানুষের ব্যাক্তিত্ব প্রকাস পায় তার ঘরের সৌন্দর্জে। আর এই কারনেই প্রত্যেক মানুষই নিজের ইচ্ছে ও পছন্দমত সরঞ্জামে তাদের ঘরকে সাজিয়ে তোলার চেষ্টা করে। তাই জন্যে বর্তমানে পন্যের বাজারে ঘর সাজানোর সামগ্রীর চাহিদাও অপরিসীম। এই চাহিদার পরিমাণ এতই বেশি যে ঘর সাজানোর সামগ্রী সাধারণ বাজারের সীমা ছাড়িয়ে ছলে এসেছে অনলাইনে। বহু মানুষ ইন্তারনেত পরিসেবার ব্যাবহার করে অনলাইনে বিভিন্ন ঘর সাজানোর সামগ্রী ক্রয় করেন এবং তাদের ঘর কে আরও সুসজ্জিত করে তোলেন। আর এই সমস্ত কারনগুলির জন্যেই অনলাইনে ঘর সাজানোর সামগ্রী বিক্রয়ের ব্যাবসা হয়ে উঠেছে বর্তমানের সবচেয়ে সহজসাধ্য ব্যাবসাগুলির মধ্যে একটি। 

কিন্তু এই ব্যাবসা যদি আপনি শুরু করতে চান, তবে তা করবেন কিভাবে? সেই প্রস্নগুলির উত্তর নিয়েই আমরা এখানে আলোচনা করব। আমরা আপনাদেরকে সেই সকল তথ্য প্রদান করব, যা জানলে আপনি সহজেই নিজে অনলাইনে ঘর সাজানোর সামগ্রী বিক্রয় করতে পারবেন এবং তার থেকে মুনাফা অর্জন করতে পারবেন। তাই আসুন বিস্তারিত ভাবে এই বিষয়ে জেনে নেওয়া যাক।

অনলাইনে ঘর সাজানোর সামগ্রী বিক্রয়ের প্রাথমিক কর্মসূচি

যেকোনো ব্যাবসা শুরু করার সময়ে কিছু প্রস্তুতি নিতে হয়। এবং ঘর সাজানোর সামগ্রির ব্যাবসাও এর ব্যাতিক্রম নয়। তাই আপনি যদি ঘর সাজানোর সামগ্রীর ব্যাবসা শুরু করতে চান, তবে আপনাকেও এই পদক্ষেপগুলি নিতে হবে এবং ব্যাবসায় অবতরনের জন্য প্রস্তুত হতে হবে।

১)পন্যের ধরন-

ঘর সাজানোর সামগ্রী বর্তমানে একাধিক ধরনের পাওয়া যায়। উদাহরনস্বরুপ বলা যেতে পারে বিভিন্ন আসবাব, অন্যান প্রয়োজনীয় গৃহসামগ্রী, সুগন্ধি মোমবাতি, ইত্যাদি। তবে আপনি এর মধ্যে  কোন ধরনের পন্য বিক্রয় করতে ইচ্ছুক এবং সক্ষম তা আপনাকে জানতে হবে। সেই বিষয়ে আপনি নিশ্চিত হতে পারলে তারপরই আপনার পরবর্তী পদখেপ নেওওার কোথা ভাবা উচিত।

২)পন্যের উৎস-

দ্রব্যমূলক ব্যাবসায় সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হল সেই ব্যাবসার পন্য। তাই আপনি যদি ঘর সাজাবার সামগ্রী অনলাইনে বিক্রয় করার পরিকল্পনা করে থাকেন, তবে আপনাকে আগে এই বিষয়ে নিশ্চিত হতে হবে যে আপনি আপনার ব্যাবসার পন্য কোথা থেকে সংগ্রহ করবেন। আপনি নিজে আপনার ব্যাবসার জন্য ঘর সাজাবার সামগ্রী প্রস্তুত করতে পারেন, অথবা আপনি তা অন্য কোন প্রস্তুতকারীর কাছে পাইকারি মুল্যে ক্রয় করতে পারেন। তবে এই পন্যের উৎস যাই হোক না কেন, ব্যাবসা শুরু করার আগে আপনাকে সেই উৎসের সাথে যোগাযোগ করতে হবে এবং নিশ্চিতহতে হবে যে তারা আপনার ব্যাবসা চলাকালে অনবরত আপনাকে পন্যের যোগান দিয়ে যেতে পারবেন কিনা।

৩)পন্যের ন্যায্য মুল্য-

আপনি যখন কোন ব্যাবসায় নামার কোথা চিন্তা করবেন, তখন আপনাকে দেখতে হবে ব্যাজারে আপনার প্রতিদ্বন্ধিদের সংখ্যা কত। এবং এই ব্যাবসা যদি ঘর সাজানোর সামগ্রীর হয় তবে আপনার জেনে রাখা উচিত যে বর্তমান ব্যাজারে আপনার প্রঅতিদ্বন্দি প্রচুর। আর এই ব্যাবসা যদি আপনি অনলাইনে পরিচালনা করতে চান, তবে এই প্রতিদ্বন্ধির সংখ্যা আরও বেশি। তাই আপনি কনভাবেই আপনার ব্যাবসায় ন্যায্য মুল্যের চেয়ে বেশি দামে পন্য বিক্রয় করতে পারবেন না।

অনলাইন ব্যাবসার মাধ্যম

আপনি যখন অনলাইনে কোন পন্য বিক্রয় করতে চাইবেন তখন আপনাকে পন্য বিক্রয় করার জন্য একটি ক্ষেত্র বা মাধ্যম বেছে নিতে হয়। এর অর্থ হল আপনি ইন্টারনেটে আগে থেকে অবস্থান করা কোন বিখ্যাত ও প্রতিষ্ঠিত ওয়েবসাইটের মাধ্যমে আপনার পন্য বিক্রয় করতে পারেন, অথবা আপনি নিজের একটি অয়েবসাইত তরি করে সেখানে নিজের পন্য বিক্রয়ের ব্যাবস্থা করতে পারেন। উভয় ক্ষেত্রেই আপনি একাধিক সুবিধা ও অসুবিধার সম্মুখীন হবেন। তবে যেহেতু আপনাকে এই দুইতি উপায়ের মধ্যেই একটিকে বেছে নিতে হবে, তাই আপনার উচিত সেই সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে দুটি মাধ্যম সম্পরকেই বিস্তারিতভাবে জেনে নেওয়া।

১)প্রতিষ্ঠিত ওয়েবসাইট-

বর্তমানে সারা বিশ্বে অসংখ্য ই-কমার্স ওয়েবসাইট রয়েছে। এবং এর মধ্যে আপনি একাধিক এমন ওয়েবসাইট পাবেন যারা সামান্য কমিসনের বিনিময়ে আপনার পন্য সাধারণ মানুষের কাছে বিক্রয় করতে ইচ্ছুক। তাই আপনি যদি এইরকম ওয়েবসাইটগুলির মধ্যে থেকে কোন বিখ্যাত এবং প্রতিষ্ঠিত ওয়েবসাইট বেছে নেন, তবে অই সামান্য কমিসনের পরিবর্তে আপনার পন্য অনেক বেশি সংখ্যক মানুষের কাছে পৌঁছে যাবে। এই ব্যাবসায় প্রাথমিক খরচ অপেক্ষাকৃত কম এবং এবং খুব সহজেই প্রচুর ক্রেতার কাছে পৌঁছে যাওয়া যায়। তবে এই মাধ্যমে একটি মুল অসুবিধাও আছে। এই মাধ্যমে আপনি ব্যাবসা করতে চাইলে আপনাকে যে কমিস্ন দিতে হয় তা অনেকক্ষেত্রেই আপনার মূল মুনাফা অনেক অন্সে কমিয়ে দেয়। তাই আপনার পক্ষে এই ব্যাবসায় অনেকবেসি অর্থ উপারজন করা এক্তু সমস্যাজনক হয়ে ওঠে। 

২)নিজস্ব ওয়েবসাইট-

আপনি যদি কোন বিখ্যাত বা প্রতিস্থিতএবসাইতে আপনার পন্য বিক্রয়ে ইচ্ছুক না হন, তবে আপনি নিজের একটি ওয়েবসাইট তৈরি করে সেখানেও আপনার পন্য বিক্রয় করতে পারবেন। এই মাধ্যমে ব্যাবসা শুরু করতে গেলে প্রাথমিক খরচা পূর্ববর্তী মাধ্যমের চেয়ে বেশি হয়। তার কারন হল এই মাধ্যমে ব্যাবসা শুরু করার আগে আপনাকে নিজস্ব খরচে একটি ওয়েবসাইট বানাতে হয়। আর নিজের ওয়েবসাইট বানানোর খরচ অন্য কোন ওয়েবসাইট কে দেওয়া কমিসনের থেকে অনেক অংসে বেশি। তবে এই মাধ্যমের ব্যাবসায় এমন কিছু সুবিধাও পাওয়া যায় যা অন্য মাধ্যমে পাওয়া যায় না। উদাহরনস্বরুপ বলা যেতে পারে আপনার বিক্রিত পন্যের উপর যা মুনাফা পাওয়া যাবে তার পুরটার উপরই অধিকার আপনার একার থাকবে।

অ্যাফিলিএট মার্কেটিং

উপরে যে উপায়গুলির কথা বলা হয়েছে তাদের প্রত্যেক্ষেত্রেই আপনাকে কিছু অর্থ লগ্নি করতে হয় এবং তার পরিবর্তে আপনি কিছু মুনাফা করেন। তবে অ্যাফিলিএট মার্কেটিং হল এমন এক ব্যাবস্থা যেখানে আপনি কোন মুল্ধন ছাড়াই ব্যাবসায় অবতীর্ন হতে পারবেন এবং অর্থ উপার্জন করতে পারবেন। এর জন্য আপনাকে প্রথমে বেছে নিতে হবে এমন কোন এক ওয়েবসাইট যারা অ্যাফিলিএট মার্কেটিং এর ব্যাবস্থা রাখে। তারপর তাদের অ্যাফিলিএশন প্রকল্পে যোগদান করলেই আপনি তাদের বিভিন্ন পন্য বিক্রি করার অধিকারি হবেন। আপনাকে কাজ হিসেবে যা করতে হবে তা হল সোশ্যাল মিডিয়ায় বা অন্য কোন উপ্যে আপনার পরিচিত ব্যাক্তিবর্গের সামনে সেই নির্দিষ্ট ওয়েবসাইটের পন্যগুলিকে প্রচার করতে হবে, যে ওয়েবসাইটের অ্যাফিলিএশন আপনি গ্রহন করেছেন। এই ধরনের ব্যাবসা চিরাচরিত ব্যাবসায়িক নীতির থেকে বেশ কিছুটা সরে এসে কাজ করে। তবে বর্তমানে এই ধরনের ব্যাবসা খুবই প্রচলিত এবং বহু মানুষ এই ব্যাবসা সঞ্চালন করে প্রচুর অর্থ উপার্জন করছেন।

উপরে আমরা আপনাকে জানলাম যে কি কি উপায়ে আপনারা অনলাইনে ঘর সাজানোর সামগ্রী বিক্রয় করতে পারেন। আপনাদের আমরা এই ধরনের ব্যাবসার একাধিক উপায় সম্পর্কে জানিয়েছি। আপনাকে জানিয়েছি যে কিভাবে আপনি অন্য কারুর তৈরি করা কোন প্রতিষ্ঠিত এবং বিখ্যাত ওয়েবসাইটের সাহায্য নিয়ে আপনি এই ধরনের পন্য বিক্রয় করতে পারেন। আবার যদি আপনি তা পছন্দ না করেন, তবে আপনি যাতে নিজস্ব ওয়েবসাইট তৈরি করে সেখানে নিজের পন্য বিক্রি করতে পারেন, সেই কারনে সেই ব্যাবস্থার কথাও আপনাকে জানিয়েছি। এছাড়া আমরা আপনাকে সম্পুর্ন অন্য একরকম ব্যাবসার কথা বলেছি যেখানে  আপনি নিজের কোন অর্থ লগ্নি না করেও অনলাইনে ঘর সাজানোর সামগ্রী বিক্রয় করতে পারেন এবং তার থেকে অর্থ উপার্জন করতে পারেন। আর এইসব তথ্য আপনার জানা থাকলে খুব সহজেই আপনি অনলাইনে ঘর সাজানোর সরঞ্জাম বিক্রয়ের ব্যাবসা শুরু করতে পারবেন। তাই সময় নষ্ট না করে এই সকল তথ্যকে ভাল করে বুঝুন এবং তারপর সেই তথ্য বিশ্লেষণ করে আপনার নিজের ব্যাবসায়িক নীতি গড়ে তুলুন যা আপনাকে এই ব্যাবসায় উন্নতির চরম শিখরে নিয়ে যাবে।

Related Posts

None

হোয়াটসঅ্যাপ বিপণন


None

জিএসটি এফেক্ট কিরণ স্টোর


None

হাসান নিচ্ সাধারণ দোকানে জন্য কোড


None

মুদি দোকান


None

কিরানার দোকান


None

ফল এবং সবজি দোকান


None

বেকারি ব্যবসা


None

হস্তশিল্প ব্যবসা


None

অটোমোবাইল আনুষাঙ্গিক