written by | October 11, 2021

অনলাইন ব্যবসায়িক ধারণা

এই ধরনের অনলাইন ব্যবসার আপনাকে ধ্বনি করে তুলবে

বর্তমান পরিস্থিতিতে আধুনিক প্রজন্মের যুবক যুবতীরা একটু বেশী পরিমাণে ব্যবসার দিকে ঝুঁকে পড়ছে। বহু লোকজন চাকরি করার সাথে সাথে অতিরিক্ত রোজগারের পথ হিসেবে অনলাইন ব্যবসাকে বেছে নিয়েছেন। শুধু তাই নয় এই অনলাইন ব্যবসায় তারা এমন সাড়া পায় যে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই তাঁরা তাঁদের চাকরি ছেড়ে দিতে বাধ্য হয়েছেন এবং অরিতিক্ত রোজগারের অনলাইন ব্যবসাই হয়ে উঠেছে প্রধান রোজগারের পথ। বিভিন্ন উপায়ে বিভিন্ন অনলাইন ব্যবসা বর্তমানে বহুল প্রচলিত হয়েছে। তবে কখনও কখনও মানুষ অনলাইন ব্যবসা করতে গিয়ে বিচিন্ন দুনম্বরি চক্রান্তের ফাঁদে পড়ে যান এবং লাভ করার পরিবর্তে হাজার হাজার টাকা লোকসান করে ফেলেন। তাই অনলাইন ব্যবসা সম্পর্কে আলোচনা করার পূর্বে এই সাবধানতা সকলকে অবলম্বন করা প্রয়োজন। 

আমরা যদি শেষ দশ বছরের তথ্যের দিকে নজর রাখি, তাহলে তপবে আমরা দেখতে পাব যে অনলাইন ব্যবসার গ্রাফ ক্রমেই উর্ধ্বমুখি হয়েছে এবং শেষ ৬-৮ মাসে অর্থাৎ কোভিড পরিস্থিতিতে এই সংখ্যাটা প্রায় দ্বিগুণেরও বেশী বৃদ্ধি পেয়েছে। অনলাইন ব্যবসা একটা বিরাট বড় পরিধি তার মধ্যে থেকে ব্যবসা করাটা যেমন খুব সহজ ঠিক তেমনই ফ্রড বা দুনম্বরি কারবারে ভর্তি হয়ে রয়েছে। তাই সত্যতা এবং নির্ভর্শীলতা যাচাই করে তবেই এই ব্যবসা শুরু করা উচিৎ। এই প্রবন্ধে আমরা বেশ কিছু অনলাইন ব্যবসা নিয়ে আলোচনা করব যা নিশ্চিতভাবে এবং দ্রুত আপনাকে ধ্বনি করে তুলতে পারে। 

কীভাবে অনলাইন ব্যবসা শুরু করবেন?

ইন্টারনেটের সুবিধা হল আপনি খুব সহজেই একটি নতুন ব্যবসা চালু করতে পারেন এবং সেখান থেকে টাকা রোজগার করতে পারেন। আপনার কাছে যদি খুব স্বল্প পরিমাণে মুল্ধন থাকে তাহলেও খুব সহজেই আপনি একটি অনলাইন ব্যবসা শুরু করতে পারেন। অনলাইন ব্যবসায় সফল হবার চাবিকাঠি হল আপনাকে অনলিনে মার্কেটিং বা প্রচারে পারদর্শী হতে হবে। আর আপনি যদি সোশাল মেডিয়া প্রচারে পারদর্শী হন তাহলে তো এই ব্যবসার মাধ্যমে অর্থ রোজগার করা আপনার কাছে খুবই সহজ। শুধু একটু দেখে নিতে হবে যে ব্যবসার ক্ষেত্রে যদি কোনও আইনি কাজ থাকে তবে সেই কাগজপত্র যেন তৈরী থাকে। সব তৈরী থাকলে আপনি এবার নেমে পড়তেই পারেন অনলাইন ব্যবসার জন্য। আসুন দেখে নেওয়া যাক কোন কোন ক্ষেত্রে অনলাইন ব্যবসা করলে আপনি দ্রুত লাভবান হতে পারবেনঃ

নতুন ব্লগ শুরু করুন

অনলাইনে রোজগার করার সবথেকে সহজ উপায় হল নিজস্ব একটা ব্লগ শুরু করা। যেকোনো বিষয়ে যাতে আপনি পারদর্শী, তাই নিয়েই আপনি শুরু করতে পারেন আপনার নিজস্ব ব্লগ পেজ। নুন্যতম খরচে বা সম্পূর্ণ বিনামূল্যে আপনি অনলাইনে তৈরী করে নিতে পারেন আপনার নিজস্ব ব্লগ পেজ। কিন্তু কীভাবে রোজগার করবেন এখান থেকে? আপনার ব্লগ যখন একটা পরিচিতি পেয়ে যাবে তখন আপনি গুগল অ্যাডসেন্স বা এরকম আরো বিভিন্ন বিজ্ঞাপন সংস্থার সাথে যুক্ত হতে পারেন। এই বিজ্ঞাপন সংস্থাগুলি আপনার ব্লগের বিভিন্ন জায়গায় অ্যাড চালাবে এবং সেখান থেকে যা অর্থ উপার্জন হবে তার একটা অংশ আপনি ব্লগের মালিক হিসাবে পেয়ে যাবেন। এছাড়াও আপনার ব্লগ যদি বিখ্যাত হয়ে যায়, তাহলে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের সাথে আপনি মিলিতভাবে কাজ করতে পারেন। অর্থের বিনিময়ে আপনি তাদের দ্রব্যে একটা রিভিউ আপনার ব্লগ-এ পোস্ট করতে পারেন অথবা তাদের একটা বিজ্ঞাপন আপনি আপনার ব্লগে ছালাতে পারেন। 

অনুমোদিত বিপণন বা অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং

বর্তমানের অনলাইন ব্যবসাগুলির মধ্যে অন্যতম সর্বাধিক প্রচলিত হল এই অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং বা অনুমোদিত বিপণন। সম্পূর্ন বিনা বিনিয়োগে এই ব্যবসা আপনি শুরু করতে পারেন। এই ব্যবসার আপনার যা প্রয়োজন তা হল একটা স্মার্টফোন বা কম্পিউটার বা ল্যাপটপ এবং সক্রিয় ইন্টারনেট পরিষেবা। যদি সহজ ভাষায় এই অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং বোঝাতে হয়, তাহলে বলা যায় যে কোনও কোম্পানির হয়ে তাদের দ্রব্যাদি প্রচার এবং বিপণন করবেন আপনার সোশ্যাল মিডিয়া প্রোফাইলে বা আপনার পরিচিতজনেদের অথবা জনস্বার্থে। সেখান থেকে যত টাকার আয় কোম্পানির হবে, আপনি তার প্রচারক হিসাবে একটা নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ পাবেন। সারা বিশ্ব জুড়ে এরকম অনেক বড় বড় অনলাইন ই-কমার্স ওয়েবসাইট আছে যাদের সাথে আপনি এই অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং প্রোগ্রামে যুক্ত হতে পারবেন। 

নিজের ব্যবসাকে অনলাইনে পরিণত করুণ

বর্তমান কোভিড পরিস্থিতিতে গোটা দুনিয়া প্রায় স্তব্ধ। প্রয়োজন ছাড়া মানুষ বাড়ি থেকে বের হচ্ছে না। আর অনলাইনে যা যা পাওয়া যায় তা তারা অনলাইনেই অর্ডার দিয়ে দিচ্ছে। তাই এইতকম পরিস্থিতিতে আপনার ব্যবসা বহাল রাখতে প্রয়োজন অনলাইনে আসা। দুইটি পদ্ধতিতে আপনি অনলাইনে ব্যবসা করতে পারেন। প্রথমত, আপনার যদি ছোট ব্যবসা হয় এবং খুব বেশী পুঁজি না থাকে, সেক্ষেত্রে আপনি বিভিন্ন বড় বড় অনলাইন শপিং ওয়েবসাইটে নিজেকে বিক্রেতা হিসেবে নথিভুক্ত করতে পারেন। এতে আপনার দায়িত্ব অপেক্ষাকৃত কম। কারণ দ্রব্য ডেলিভেরি করার সম্পুর্ণ কাজটাই করে সেই কম্পানি নিজে। শুধু তাই নয় ক্রেতা পরিষেবাও তারাইদিয়ে থাকে। দ্বিতীয়ত, আপনার যদি বিরাট ব্যবসা হয়, তাহলে আপনি এই সমস্ত ওয়েবসাইটে বিক্রেতা হিসেবে নাম নথিভুক্ত করার সাথে সাথে নিজেস্ব অনলাইন স্টোরও খুলে নিতে পারেন। যেখানে আপনি সরাসরি ক্রেতাদের সাথে সু-যোগাযোগ রাখতে পারেন। 

ডোমেন ও হোস্টিং এর ব্যবসা

অনলাইনে যে কোনো কিছু করতে গেলেই প্রয়োজন হয় একটি ওয়েবসাইটের। আর এই ওয়েবসাইটের মূল দুটি স্তম্ভ হল ডোমেন ও হোস্টিং। ডোমেন অর্থাৎ যে নামে আপনার ওয়েবসাইট তৈরী হবে সেটি নথিভুক্ত করা এবং হোস্টিং অর্থাৎ একটা ভার্চুয়াল জায়গা যার মাধম্যে আপনার ওয়েবসাইটটা ইন্টারনেটে চলবে এবং যেখানে আপনার ওয়েবসাইট সংক্রান্ত সমস্ত তথ্য স্বযত্নে রাখা থাকবে। প্রতিদিন সারা বিশ্ব জুড়ে হাজার হাজার ওয়েবসাইট তৈরী হচ্ছে এবং তার জন্য প্রয়োজন হয়ে পড়ছে ডোমেন ও হস্টিং। সুতরাং আপনার নতুন ব্যবসা হিসেবে আপনি এই বিষয়টিকে নির্বাচন করতেই পারেন। বিভিন্ন কোম্পানি থেকে হোস্টিং বৃহৎ আকারে কিনে নিয়ে আপনি খুচরো বিক্রয় করতেই পারেন তাতে আপনি অনেক বেশী মুনাফা অর্জন করতে পারবেন।

উপরিউল্লিখিত ব্যবসাগুলি ছাড়াও আরও অনেক অনলাইন ব্যবসা রয়েছে যার সাহায্যে আপনি খুব অল্প সময়েই বেশী সংখ্যক মুনাফা লাভ করতে পারবেন। এগুলি হল – অ্যামাজন এফ.বি.এ ব্যবসা, অ্যাপ ডেভেলপমেন্ট, স্টক ও ফরেক্স কেনাবেচা, এ-কমার্স ওয়েবসাইট, সোশ্যাল মিডিয়া বিপণনের পরামর্শদাতা, পেশাদার ফ্রিল্যান্সার, ওয়র্ডপ্রেস থীম তৈরী, বিজ্ঞাপনদাতাদের সাথে কাজ করা, পেশাদার লেখক, গবেষণা সম্পাদন করা, অনলাইন বিপণন, ছবি বিক্রি, ভার্চুয়াল সহকারীর কাজ, অনলাইন শিক্ষকতা, ক্রিপ্টোকয়েন ব্যবসা, ওয়েব ডেভেলপার, ইউটিউবার, ইত্যাদি। এই সমস্ত অনলাইনে কাজ বা ব্যবসার মাধ্যমে কোটি কোটি মানুষ প্রচুর অর্থ রোজগার করছেন। আপনার পারদর্শীতার উপর ভিত্তি করে আপনিও বেছে নিতে পারেন এগুলোর মধ্যে যেকোনো একটি এবং খুব তাড়াতাড়ি হয়ে যেতে পারেন একজন ধ্বনি ব্যক্তি।

তবে অবশ্যই মাথায় রাখতে হবে যে অন্যান্য জায়গার তুলনায় অনলাইনে ফ্রড ও দুনম্বরী লোকের সমাগম খুব বেশী। তাই ক্রেতা হক বা বিক্রেতা বা বিজ্ঞাপন দাতা, ভালো করে যাচাই না করে কোনও রকম লেনদেন বা কোনোরকম তথ্য দেওয়া নেওয়া করবেন না। এই সমস্ত লোকেরা খুব ভালো ব্যবহার করে বা আপনাকে ভয় দেখিয়ে আপনার ব্যাঙ্কের অ্যাকাইন্টের ব্যক্তিগত তথ্য আপনার থেকে নিয়ে, আপনার জমানো সমস্ত টাকা চুরি করে নেবে। এই সাইবার ক্রাইমের শিকার প্রতিদিন অসংখ্য মানুষ হয়ে থাকেন। তাই অনলাইন ব্যবসা করে আপনি যেমন প্রচুর মুনাফা অর্জন করার সুযোগ পাবেন, ঠিক সেরকমই সবকিছু হারানোর ভয়ও থাকে। তবে সঠিক সাবধানতা অবলম্বন করলে সেই সম্ভাবনাটা অনেকটাই কমে যায়।

Related Posts

None

হোয়াটসঅ্যাপ বিপণন


None

জিএসটি এফেক্ট কিরণ স্টোর


None

হাসান নিচ্ সাধারণ দোকানে জন্য কোড


None

মুদি দোকান


None

কিরানার দোকান


None

ফল এবং সবজি দোকান


None

বেকারি ব্যবসা


None

হস্তশিল্প ব্যবসা


None

অটোমোবাইল আনুষাঙ্গিক